:::: সূচীপত্র ::::
যমুনাতটে (২)

কি আশ্চৰ্য্য ! এত করে করিনু মিনতি,
তবু কি আমার কথা শুনিলে না, ধনি ?
এ সকল দেখে শুনে, রাধার কপাল-গুণে,
তুমিও কি ঘৃণিলা গো রাধায়, স্বজনি ?
এই কি উচিত তব, ওহে স্রোতস্বতি ?

হায় রে তোমারে কেন দোষি, ভাগ্যবতি ?
ভিখারিণী রাধা এবেতুমি রাজরাণী।
হরপ্রিয়া মন্দাকিনী,১৮ সুভগে, তব সঙ্গিনী,
অর্পেণ সাগর-করে তিনি তব পাণি ! ১৯
সাগর-বাসরে তব তাঁর সহ গতি !

মৃদু হাসি নিশি আসি দেখা দেয় যবে,
মনোহর সাজে তুমি সাজ লো কামিনী
তারাময় হার পরি, শশধরে শিরে ধরি,
কুসুমদাম কবরী, তুমি বিনোদিনী,
দ্রুতগতি পতিপাশে যাও কলরবে।


১০
হায় রে এ ব্রজে আজি কে আছে রাধার ?
কে জানে এ ব্ৰজজনে রাধার যাতন ?
দিবা অবসান হলে, রবি গেলে আস্তাচলে,
যদিও ঘোর তিমিরে ডোবে ত্রিভুবন,
নলিনী যেমনি জ্বলেএত জ্বালা কার ?

১১
উচ্চ তুমি নীচ এবে আমি হে যুবতি,
কিন্তু পর-তুঃখে দুঃখী না হয় যে জন,
বিফল জনম তার অবশ্য সে দুরাচার।
মধু কহে, মিছে ধনি করিছ রোদন,
কাহার হৃদয়ে দয়া করেন বসতি ?
--------xXx--------

১৮. মন্দাকিনী গঙ্গা হরের পত্মীরূপে পুরাণে বর্ণিতা।
১৯. সাগরকে যমুনার পতিরূপে কল্পনা করা হয়েছে, তাই গঙ্গা যেন যমুনাকে সাগরের তাতে অপর্ণ করছেন।


সূত্র : মধুসূদন রচনাবলী-সব্যসাচী রায় (সম্পাদনায়)