:::: সূচীপত্র ::::
যমুনাতটে

মৃদু কলরবে তুমি, ওহে শৈবলিনি,১২
কি কহিছ ভাল করে কহ না আমারে।
সাগর-বিরহে যদি, প্রাণ তব কাঁদে, নদি,
তোমার মনের কথা কহ রাধিকারে
তুমি কি জান না, ধনি, সেও বিরহিণী ?

তপনতনয়া তুমি; তেঁই১৩ কাদম্বিনী১৪
পালে তোমা শৈলনাথ-কাঞ্চন-ভবনে১৫;
জন্ম তব রাজকুলে, (সৌরভ জনমে ফুলে)
রাধিকারে লজ্জা তুমি কর কি কারণে ?
তুমি কি জান না সেও রাজার নন্দিনী ?

এস, সখি, তুমি আমি বসি এ বিরলে !
দুজনের মনোজ্বালা জুড়াই দুজনে;
তব কুলে, কল্লোলিনি, ভ্ৰমি আমি একাকিনী,
অনাথা অতিথি আমি তোমার সদনে
তিতিছে বসন মোর নয়নের জলে !

ফেলিয়া দিয়াছি আমি যত অলঙ্কার
রতন, মুকুতা, হীরা, সব আভরণ !
ছিঁড়িয়াছি ফুল-মালা জুড়াতে মনের জ্বালা,
চন্দন চর্চিত দেহে ভস্মের লেপন !
আর কি এ সবে সাদ আছে গো রাধার?

তবে যে সিন্দুরবিন্দু দেখিছ ললাটে,
সধবা বলিয়া আমি রেখেছি ইহারে !১৬
কিন্তু অগ্নিশিখা সম, হে সখি, সীমন্তে মম
জ্বলিছে এ রেখা আজি কহিনু তোমারে
গোপিলে১৭ এ সব কথা প্রাণ যেন ফাটে !

বসো আসি, শশিমুখি, আমার আঁচলে,
কমল আসনে যথা কমলবাসিনী !
ধরিয়া তোমার গলা, কাঁদি লো আমি অবলা,
ক্ষণেক ভুলি এ জ্বালা, ওহে প্রবাহিণি !
এস গো বসি দুজনে এ বিজন স্থলে !
--------xXx--------

১২. নদী।
১৩. সেই কারণে, তিনি।


১৪. মেঘ।
১৫. পর্বতরাজ অর্থাৎ হিমালয়ের স্বর্ণময় ভবনে।
১৬. মধুসূদনের কল্পনায় রাধা কৃষ্ণের পত্মীরূপে বর্ণিত। বৈষ্ণব কবিতায় রাধা কৃষ্ণের পরকিয়া নায়িকা।
১৭. গোপন করলে। 
১৮. মন্দাকিনী গঙ্গা হরের পত্মীরূপে পুরাণে বর্ণিতা।

সূত্র : মধুসূদন রচনাবলী-সব্যসাচী রায় (সম্পাদনায়)