:::: সূচীপত্র ::::
আবু জাফর শামসুদ্দীন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আবু জাফর শামসুদ্দীন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভাদ্রের শেষের সুন্দর রাত্রিচাঁদে আলোয় ধরণী শুভ্ৰবেশ ধরেছেগ্যাসের আলো আর জ্যোৎস্নার পাল্লা চলছেকার কতদূর শক্তি পরখ হবেএমন রাতে ঘুমুতে কার ইচ্ছা করেবিশেষ করে যদি জানলা দিয়ে এক টুকরো চাঁদে আলো মুখের ওপরে এসে পড়েএমন অবস্থায় দেহমনে আনন্দ-শিহরণ এবং পুলক-স্পন্দন অনুভূত হওয়া খুবই স্বাভাবিক
বাইরেই বোধ করি ভালো লাগবেমিস হাসিনা শয্যা ছেড়ে দিলপোড়া চোখকে গাল দিলে আর কি হবে! প্রকৃতিই যে আজ তার সাথে ফ্লার্ট করার জন্যে অনুপম সাজে সেজেছেভরা যৌবন-কালে এমনি করে প্ররোচিত হলে সবাই ফ্লার্ট করবেকেবল তার দোষ কি ?
আস্তে আস্তে দুয়োর খুললো সে মা যেন টের না পানপাশের ঘরে তিনি
তিন তলার উপরে তাদের তিনটি ঘরউত্তর-দক্ষিণে বাড়ীউত্তর দিকের ফ্লাটটা তাদেরদক্ষিণ দিকে আর একটি ফ্লাটসেটার সামনে খানিকটা ফাঁকা জায়গা আছেসেখানে গিয়ে সে দাঁড়ালো
এই যে চমৎকার শিশির-স্নাত জোৎস্নাপুলকিত রাত্রি প্রতিদিন চলে যায়অথচ তার ক্ষুধিত চক্ষু দেখতে পায় না, এর চাইতে আফসোস এবং লজ্জা আর কি হতে পারেবঞ্চিত করে তাকে তার ভরা যৌবন আর উপরওয়ালাদের শাসনদেহের ভয়ে বেরোয়নি এতদিনদেহভোগেই বা অন্যায়টা কি, তার মনে হয় ! আজ ধরণী নিজেই তো ভোগ করা পরিপূর্ণরূপে আপনাকে : স্রষ্টা ভোগ করছেন পরিপূর্ণরূপে তাঁ সৃষ্টিকে
আজ সে সব বন্ধন টুটবেক্ষিধেয় কাতর থাকার চেয়ে খেয়ে পেটের অসুখে ভোগা অনেক ভালোশরতের পরে আসে গাঢ় কুয়াশাপূর্ণ শীতের রাত্রিশরৎ তবু কাম্যএকান্ত কাম্য
সে আজ সত্যি ক্ষেপে উঠবে
১৯৭১ সালমাসটা মনে নেইমনে থাকার কথা নয়, কেননা তখন মাসের হিসেবে জীবন গণনা করা হতো নাপ্রতি মুহুর্তে আলদা করে বাঁচতে হতোএকটানা এক মাস দুমাস বেঁচে থাকার কল্পনা কারো মনে উদয় হতো নাসে ছিল এক অদ্ভূত অভূতপূর্ব আশ্চর্য বাঁচা, পরবতী মূহুতে কি ঘটবে জানা নেই, অথচ বেঁচে আছি, মুহুর্ত মুহুর্ত করে মাসও কেঁটে যাচ্ছে, কিন্তু মুহুর্তের বাইরে যে বিস্তৃত দিগন্ত রয়েছে সেখানে দৃষ্টি প্রসারিত করা যাচ্ছে নাআশা আকাঙ্ক্ষা অভিলাষ বলতে কিছু নেইসের্‌ফ বেঁচে আছি, ব্যসআছি ত আছি, নেই ত নেইভবিষ্যৎ নেই, অতএব ভবিষ্যতের ভাবনাও নেই, পরিকল্পনাও নেইনির্ভেজাল নিখুঁত অস্তিত্বটুকু নিয়ে বাঁচা!
গ্রামে টিটি পড়ে গেলপাঁচ ছেলের মা সাদুর মেয়ে জয়তুনকে তার জামাই তালাক দিয়েছে
 
পাড়ার মেয়েদের কাছে খবরটা বেশ মুখরোচকরসঘন আলাপ করার মতো ঘটনা অনেক দিন হাকিমপুরে ঘটে নিএকটানা চলে যাচ্ছিল দিনগুলো, না ছিল তাতে কোনরূপ বৈচিত্র্য না ছিল নতুনের উন্মাদনাচলছিল শুধু রবিবাবুর কথায়রাঁধার পরে খাওয়া, তারপরে আবার রাঁধা, তারপরে আবার খাওয়াকাজেই মেয়েরা ব্যাপারটাকে নিয়ে জটলা পাকাচ্ছিলমাঝে মাঝে বেটাছেলেরাও দু'এক কথা বলে জিনিসটাকে আরও রসাত্মক করে তুলছিল
আহমদ আবদুল্লাহ আবু নাসের চৌধুরী সংক্ষেপে নাসের সাহেব। পিতা-পিতামহেরা বড় জমিদার ছিলেন। এখন জমিদারি নেই কিন্তু পাঁচিলেঘেরা জমিদার বাড়ীটা আছে। পাঁচিলের বাইরের বিশাল দিঘিটা সংস্কারের অভাবে শীতে কাতর জরাজীর্ণ বৃদ্ধদের মতো দামদকখলের কাঁথা মুড়ি দিয়ে বুঝিবা অতীত রোমন্থনে ধ্যানমগ্ন। দিঘিতে এখন আর ঢেউ উঠে না। কিন্তু বাহির বাড়ীতে কাচারি ঘরের সামনের দুসারি দেবদারু এবং মেটে সড়ক দিয়ে দিঘির পাড়ে পড়ার মুখে দণ্ডায়মান মেহগনি গাছ দুটোতে এখনও আগের মতো সবুজ কিশলয়ের সমারোহ। দিঘির বাঁধানো ঘাটের দুদিকে দুটি করে চারটি ঝাউগাছের শীর্ষদেশে প্রবহমাণ হাওয়ার শনশন ধ্বনি এখনও পথিককে জমিদার বাড়ীর অতীত তমতমি স্মরণ করিয়ে দেয়। বাড়ীর বেষ্টনী পাঁচিলটার উপরে শ্যাওলা পড়েছে, ভেঙ্গে গেছে স্থানে স্থানে এবং ভাঙ্গা স্থানগুলোতে নানা রকমের আগাছা জন্মেছে যার মধ্যে চোতরালতার (বিছুটি) সংখ্যাই বেশী।

নাসের সাহেব এ যুগের মানুষ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট ক্লাশের যখন তিনি মেধাবী ছাত্র তখন জিন্নাহ সাহেবের আহ্বানে মুসলমান সমাজের খেদমতে নামেন। সঙ্গে সঙ্গে তার ব্রিলিয়ান্ট ক্যারিয়ার নির্মাণ শুরু হয়। বেশিদিন ছাত্র রাজনীতি করতে হয় নি। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত আভিজাত্য তাঁর সহায় হয়। অল্পদিনের মধ্যেই রাজধানীর মান্যগণ্য ব্যক্তিদের তালিকায় তাঁর নাম পাথরে উৎকীর্ণ ঐতিহাসিক লিপির মতো পাকাপোক্ত হয়ে যায়। নিজ এলাকায় ত প্রতিপত্তি ছিলই। নাটমন্দির সমাধিতে পরিণত হেত দেরী লাগে। রাজশকুন যত বুড়োই হোক তাতে কিছু ক্ষতিবৃদ্ধি হয় না: আর রঞ্জিত গলাটাই রাজত্ব করে।