:::: সূচীপত্র ::::
মলয় মারুত

শুনেছি মলয় গিরি তোমার আলয়
          মলয় পবন !
বিহঙ্গিনীগণ তথা     গায়ে বিদ্যাধরী যথা,
সঙ্গীত সুধায় পূরে নন্দন কানন ;
কুসুমকুলকামিনী,     কোমলা কমলা জিনি,
সেবে তোমা, রতি যথা সেবেন মদন!

হায়, কেনে ব্রজে আজি ভ্ৰমিছ হে তুমি
     মন্দ সমীরণ ?
যাও সরসীর কোলে, দোলাও মৃদু হিল্লোলে
    সুপ্রফুল্ল নলিনীরেপ্রেমানন্দ মন !
ব্ৰজ-প্রভাকর যিনি,   ব্ৰজ আজি ত্যজি তিনি,
    বিরাজেন অস্তাচলেনন্দের নন্দন!


সৌরভ রতন দানে তুষিবে তোমারে
           অাদরে নলিনী ;
তব তুল্য উপহার       কি আজি আছে রাধার ?
    নয়ন আসারে, দেব, ভাসে সে দুঃখিনী !
যাও যথা পিকবধু    বরিষে সঙ্গীত-মধু,
    এ নিকুঞ্জে কাঁদে আজি রাধা বিরহিণী !


তবে যদি, সুভগ, এ অভাগীর দুঃখে
           দুঃখী তুমি মনে,
যাও শু, আশুগতি,    যথা ব্ৰজকুলপতি
    যাও যথা পাবে, দেব, ব্রজের রতনে !
রাধার রোদনধ্বনি      বহ যথা শ্যামমণি
   কহ তাঁরে মরে রাধা শ্যামের বিহনে !

    যাও চলি, মহাবলি, যথা বনমালী
              রাধিকা-বাসন ২৭
তুঙ্গ শৃঙ্গ দুষ্টমতি,      রোধে যদি তব গতি,
     মোর অনুরোধে তারে ভেঙো, প্রভঞ্জন !
তরুরাজ যুদ্ধ আশে, তোমারে যদি সম্ভাষে
     ব্রজাঘাতে যেও তার করিয়া দলন !

     দেখি তোমা পরিভের ফাঁদ পাতে যদি
               নদী রূপবতী ;
মজো না বিভ্রমে তার, তুমি হে দূত রাধার,
      হেরো না, হেরো না দেব কুসুম যুবতী !
কিনিতে তোমার মন,     দিবে সে সৌরভধন,
      অবহেলি সে ছলনা, যেয়ো আশুগতি !

      শিশিরের নীরে ভাবি অশ্রুবারিধারা,
               ভুলো না, পবন !
কোকিলা শাখা উপরে,    ডাকে যদি পঞ্চস্বরে,
মোর কিরে২৮ শীঘ্র করে ছেড়ো সে কানন !
স্মরি রাধিকার দুঃখ,       হইও সুখে বিমুখ
মহৎ যে পরদুঃখে দুঃখী সে সুজন !

       উতরিবে যবে যথা রাধিকারমণ,
                 মোর দূত হয়ে,
কহিও গোকুল কাঁদে        হারাইয়া শ্যামচাঁদে
      রাধার রোদনধ্বনি দিও তাঁরে লয়ে ;
আর কথা অামি নারী শরমে কহিতে নারি,—
মধু কহে, ব্রজাঙ্গনে, আমি দিব কয়ে।

--------xXx--------

২৭. রাধিকার বাসনার ধন—কৃষ্ণ।
২৮. শপথ বা দিব্য। নিতান্ত লৌকিক শব্দ।

সূত্র : মধুসূদন রচনাবলী-সব্যসাচী রায় (সম্পাদনায়)