১৬
সখী
কি কহিলি কহ, সই, শুনি লো আবার—
মধুর বচন !
সহসা হইনু কালা; জুড়া এ প্রাণের জ্বালা,
আর কি এ পোড়। প্রাণ পাবে সে রতন ?
হ্যাদে তোর পায় ধরি, কহ না লো সত্য করি,
আসিবে কি ব্রজে পুনঃ রাধিকারমণ ?
২
কহ, সখি, ফুটিবে কি এ মরুভূমিতে
কুমুমকানন ?
জলহীনা স্রোতস্বতী, হবে কি লো জলবতী,
পয়ঃ৪৭ সহ পয়োদে৪৮ কি বহিবে পবন ?
হ্যাদে তোর পায় ধরি, কহ না লো সত্য করি,
আসিবে কি ব্রজে পুনঃ রাধিকারঞ্জন ?
৩
হায় লো সয়েছি কত, শ্যামের বিহনে—
কতই যাতন।
যে জন অন্তরযামী সেই জানে আর আমি,
কত যে কেঁদেছি তার কে করে বর্ণন ?
হ্যাদে তোর পায় ধরি, কহ না লো সত্য করি,
আসিবে কি ব্রজে পুন: রাধিকামোহন।
৪
কোথা রে গোকুল-ইন্দু,৪৯— বৃন্দাবন-সর-
কুমুদ-বাসন৫০ ।
বিষাদ নিশ্বাস বায়, ব্রজ, নাথ, উড়ে যায়,
কে রাখিবে, তব রাজ, ব্রজের রাজন !
হ্যাদে তোর পায় ধরি, কহ না লো সত্য করি,
আসিবে কি ব্রজে পুনঃ রাধিকাভূষণ !
৫
শিখিনী ধরি, স্বজনি, গ্রাসে মহাফণী—
বিষের সদন !
বিরহ বিষের তাপে শিখিনী আপনি কাঁপে,
কুলবালা এ জ্বালায় ধরে কি জীবন !
হ্যাদে তোর পায় ধরি, কহ না লো সত্য করি,
আসিবে কি ব্রজে পুনঃ রাধিকারতন !
৬
এই দেখ্, ফুলমালা গাঁথিয়াছি আমি—
চিকণ গাঁথন !
দোলাইব শ্যামগলে, বাঁধিব বঁধূরে ছলে—
প্ৰেম-ফুল-ডোরে তাঁরে করিব বন্ধন !
হ্যাদে তোর পায় ধরি, কহ না লো সত্য করি,
আসিবে কি ব্রজে পুনঃ রাধাবিনোদন ।
৭
কি কহিলি কহ, সই, শুনি লো আবার—
মধুর বচন।
সহসা হইনু কালা, জুড়া এ প্রাণের জ্বালা
অার কি এ পোড়া প্রাণ পাবে সে রতন !
মধু—যার মধুধ্বনি— কহে কেন কাঁদ, ধনি,
ভুলিতে কি পারে তোমা শ্ৰীমধুসুদন ?
৪৭. জল।
৪৮.মেঘ।
৪৯. ব্রজধামের চন্দ্রস্বরূপ কৃষ্ণ।
সখী
কি কহিলি কহ, সই, শুনি লো আবার—
মধুর বচন !
সহসা হইনু কালা; জুড়া এ প্রাণের জ্বালা,
আর কি এ পোড়। প্রাণ পাবে সে রতন ?
হ্যাদে তোর পায় ধরি, কহ না লো সত্য করি,
আসিবে কি ব্রজে পুনঃ রাধিকারমণ ?
২
কহ, সখি, ফুটিবে কি এ মরুভূমিতে
কুমুমকানন ?
জলহীনা স্রোতস্বতী, হবে কি লো জলবতী,
পয়ঃ৪৭ সহ পয়োদে৪৮ কি বহিবে পবন ?
হ্যাদে তোর পায় ধরি, কহ না লো সত্য করি,
আসিবে কি ব্রজে পুনঃ রাধিকারঞ্জন ?
৩
হায় লো সয়েছি কত, শ্যামের বিহনে—
কতই যাতন।
যে জন অন্তরযামী সেই জানে আর আমি,
কত যে কেঁদেছি তার কে করে বর্ণন ?
হ্যাদে তোর পায় ধরি, কহ না লো সত্য করি,
আসিবে কি ব্রজে পুন: রাধিকামোহন।
৪
কোথা রে গোকুল-ইন্দু,৪৯— বৃন্দাবন-সর-
কুমুদ-বাসন৫০ ।
বিষাদ নিশ্বাস বায়, ব্রজ, নাথ, উড়ে যায়,
কে রাখিবে, তব রাজ, ব্রজের রাজন !
হ্যাদে তোর পায় ধরি, কহ না লো সত্য করি,
আসিবে কি ব্রজে পুনঃ রাধিকাভূষণ !
৫
শিখিনী ধরি, স্বজনি, গ্রাসে মহাফণী—
বিষের সদন !
বিরহ বিষের তাপে শিখিনী আপনি কাঁপে,
কুলবালা এ জ্বালায় ধরে কি জীবন !
হ্যাদে তোর পায় ধরি, কহ না লো সত্য করি,
আসিবে কি ব্রজে পুনঃ রাধিকারতন !
৬
এই দেখ্, ফুলমালা গাঁথিয়াছি আমি—
চিকণ গাঁথন !
দোলাইব শ্যামগলে, বাঁধিব বঁধূরে ছলে—
প্ৰেম-ফুল-ডোরে তাঁরে করিব বন্ধন !
হ্যাদে তোর পায় ধরি, কহ না লো সত্য করি,
আসিবে কি ব্রজে পুনঃ রাধাবিনোদন ।
৭
কি কহিলি কহ, সই, শুনি লো আবার—
মধুর বচন।
সহসা হইনু কালা, জুড়া এ প্রাণের জ্বালা
অার কি এ পোড়া প্রাণ পাবে সে রতন !
মধু—যার মধুধ্বনি— কহে কেন কাঁদ, ধনি,
ভুলিতে কি পারে তোমা শ্ৰীমধুসুদন ?
--------xXx--------
৪৮.মেঘ।
৪৯. ব্রজধামের চন্দ্রস্বরূপ কৃষ্ণ।
৫০. বৃন্দাবন রূপ সরোবরের কুমুদ স্বরূপ রাধিকার বাসনার ধন—কৃষ্ণ।
সূত্র : মধুসূদন রচনাবলী-সব্যসাচী রায় (সম্পাদনায়)
সূত্র : মধুসূদন রচনাবলী-সব্যসাচী রায় (সম্পাদনায়)