অনুপ্রাস
: ইংরেজি 'অ্যালিটারেশন'
(Alliteration)। একই শব্দ, সাধারণত প্রথম ব্যঞ্জনবর্ণের পুনরাবৃত্তি।
['ঝঞ্ঝার ঝংকারে ঝংকারে' অথবা, 'গুরু গুরু মেঘ গুমরি
গুমরি গরজে গগনে গগনে, গরজে গগনে' অথবা, 'কেতকী কেশরে কেশপাশ
করো সুরভি']।
ইংরেজি 'আলিটারেটিভ্'
কবিতায় ছন্দ নয়, অনুপ্রাসই কবিতার
মূল সূত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এখানে একটি স্বরবর্ণ আর একটি স্বরবর্ণের সঙ্গে অনুপ্রাসে রণিত
হয়। অনুপ্রাসিক ছন্দ :
(alliterative metre) : মধ্যযতি (Caesura)
দ্বারা দুটি অর্ধছত্রে বিভক্ত একটি দীর্ঘ বাক্য। প্রতিটি অর্ধছত্রে
কয়েকটি (সাধারণত দুটি) ঝোঁক দেওয়া এবং একটি পরিবর্তনীয় (variable) ঝোঁক না-দেওয়া দল (সিলেব্ল) থাকে। এই দুটি অর্ধছত্রকে অনুপ্রাসদ্বারা যুক্ত
করা হয়। সাহিত্যদর্পণকার বিশ্বনাথের মতে স্বরবর্ণের বারবার বিন্যাসের ফলেই অনুপ্রাসের সৃষ্টি
হয় না। তাঁর মতে, 'রসের অনুগতভাবে বর্ণের প্রকৃষ্ট ন্যাস বা
প্রয়োগেই অনুপ্রাসের সার্থকতা'।
অনুপ্রাস পাঁচ ধরনের
হয়—বৃত্তি, ছেক, অন্ত্য, লাট ও শ্রুতি।
(১) বৃত্তানুপ্রাস—একটি বর্ণ বা বর্ণগুচ্ছ একাধিকবার ক্রমানুসারে ব্যবহৃত হলে বৃত্তানুপ্রাস
হয়।
['অমল ধবল, পালে লেগেছে'] ।
(২) ছেকানুপ্রাস—দুই বা দুইএর অধিক বর্ণ এক সঙ্গে বা আলাদাভাবে ক্রমানুসারে যদি
দুবার মাত্র ব্যবহৃত হয়, তবে ছেকানুপ্রাস হয়।
['জল সিঞ্চিত ক্ষিতি সৌরভ রভসে']।
(৩) অন্ত্যানুপ্রাস-কবিতায় পর পর দু-ধরনের শেষ ধ্বনি একই হলে
অন্ত্যানুপ্রাস হয়।
['মহাভারতের কথা অমৃতসমান। কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।']।
(৪) লাটানুপ্রাস-অর্থযুক্ত একটি শব্দের পুনরাবৃত্তিকে লাটানুপ্রাস
বলে।
['আলো আমার আলো ওগো আলোয় ভুবন ভরা']।
(৫) শ্রুত্যনুপ্রাস-একই ধরনেরএকাধিক বর্ণ বা ধবনির ব্যবহারে শুতানুপ্রাস
সৃষ্ট হয়।
['আমি তখন ছিলেম মগন গহন ঘুমের ঘোরে']।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন