অধিউপন্যাস
: উপন্যাস-বিষয়ক উপন্যাস, যে-উপন্যাসে উপন্যাসের নিজস্ব আঙ্গিকের বিষয়ে মন্তব্য করা হয়। ইংরেজিতে ‘মেটাফিকশন' (Meta-fiction) ! কোনও ঔপন্যাসিক যখন নিজের উপন্যাস লেখার সমস্যা সম্বন্ধে নিজের উপন্যাসে আলোচনা করেন তখন তাকে ‘অধিউপন্যাস’ বলা হয়। [সমরেশ বসুর “শাস্ব’ উপন্যাসে এই উপাদান আছে। তিনি উপন্যাসের ঘটনাবলিতে পৌঁছাবার আগে উপন্যাসের ভাবনার কথা বলেছেন। ভেবেছিলাম সরাসরি যাত্রা করবো দ্বারাবতী, যেস্থানকে লোকে জানে দ্বারকা নামে। স্থান যদি দ্বারাবতী, কাল তবে কলি-সন্ধ্যা, অর্থাৎ দ্বাপরান্তর। ...ইতিহাস প্রসিদ্ধ দ্বারাবতী যাবার আগে, পুরাণ যে ইতিহাস, তার যুক্তির ধন্দ কিঞ্চিৎ কাটানো দরকার। অথবা, দেবেশ রায়ের ‘সময় অসময়ের বৃত্তান্ত’ উপন্যাসেও অধিঔপন্যাসিক উপাদান আছে। যেমন, ‘তাই, এখন এই উপন্যাসে আমি আবার গোড়ায় ফিরে যেতে চাই। ...আমার উপন্যাসে সেই আইন আদালত, সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা ও শৃঙ্খলার ওপর আক্ৰমণ, শৃঙ্খলার ওপর অন্তর্ঘাত। তাই আমার এমন বিরক্তিকর পুনরুক্তি যে পাড়ারিয়ার ঘটনা নিয়ে আমি উপন্যাস লিখতে চাই না, বরং পাড়ারিয়ার ঘটনার মধ্যে আমি আমার উপন্যাস ঢুকিয়ে দিতে চাই’]।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন