:::: সূচীপত্র ::::

পৃথিবী

হে বসুধে, জগৎজননি।
দয়াবতী তুমি, সতি, বিদিত ভুবনে।
যবে দশানন অরি,
বিসর্জ্জিলা হুতাশনে জানকী সুন্দরী,
তুমি গো রাখিলা বরাননে।
তুমি, ধনি, দ্বিধা হয়ে, বৈদেহীরে কোলে লয়ে,
জুড়ালে তাহার জ্বালা বা বাসুকি-রমণি!

হে বসুধে, রাধা বিরহিণী।
তার প্রতি আজি তুমি বাম কি কারণে ?
শ্যামের বিরহানলে, সুভগে, অভাগা জ্বলে,
তারে যে কর না তুমি মনে ?
পুড়িছে অৰলা বালা, কে সম্বরে তার জ্বালা,
হায়, এ কি রীতি ভব, হে ঋতু কামিনি।

শমীর হৃদয়ে অগ্নি জ্বলে
কিন্তু সে কি বিরহ-অনল, বসুন্ধরে ?
তা হলে বন-শোভিনী
জীবন যৌবন তাপে হারাত তাপিনী
বিরহ দুরূহ দুহে হরে !
পুড়ি আমি অভাগিনী, চেয়ে দেখ না মেদিনি,
পুড়ে যথা বনস্থলী ঘোর দাবানলে !

8
আপনি তো জান গো ধরণি
তুমিও তো ভালবাস ঋতুকুলপতি।
তার শুভ আগমনে
হাসিয়া সাজহ তুমি নানা আভরণে
কামে পেলে সাজে যথা রতি !
অলকে ঝলকে কত ফুল-রত্ন শত শত !
তাহার বিরহ দুঃখ ভেবে দেখ, ধনি।

লোকে বলে রাধা কলঙ্কিনী।
তুমি তারে ঘৃণা কেনে কর, সীমন্তিনি ?
অনন্ত, জলধি নিধি
এই দুই বরে তোমা দিয়াছেন বিধি,
তবু তুমি মধুবিলাসিনী২১।
শ্যাম মম প্রাণ স্বামীশ্যামে হারায়েছি আমি,
আমার ছঃখে কি তুমি হও না দুঃখিনী ?


হে মহি, এ অবোধ পরাণ
কেমনে করিব স্থির কহ গো অামারে ?
বসন্তরাজ বিহনে
কেমনে বাঁচ গো তুমিকি ভাবিয়া মনে
শেখাও সে সব রাধিকারে।
মধু কহে, হে সুন্দরি, থাক হে ধৈরয ধরি,
কালে মধু বসুধারে করে মধুদান !
--------xXx--------


২১. মধুকালবসন্তকাল। বসন্তকালের প্রিয়।

সূত্র : মধুসূদন রচনাবলী-সব্যসাচী রায় (সম্পাদনায়)