৫
পৃথিবী
পৃথিবী
১
হে বসুধে, জগৎজননি।
দয়াবতী তুমি, সতি, বিদিত ভুবনে।
যবে দশানন অরি,
বিসর্জ্জিলা হুতাশনে
জানকী সুন্দরী,
তুমি গো রাখিলা বরাননে।
তুমি, ধনি, দ্বিধা হয়ে,
বৈদেহীরে কোলে লয়ে,
জুড়ালে তাহার জ্বালা বা বাসুকি-রমণি!
২
হে বসুধে, রাধা বিরহিণী।
তার প্রতি আজি তুমি
বাম কি কারণে ?
শ্যামের বিরহানলে, সুভগে, অভাগা জ্বলে,
তারে যে কর
না তুমি মনে ?
পুড়িছে অৰলা বালা, কে সম্বরে তার জ্বালা,
৩
শমীর হৃদয়ে অগ্নি জ্বলে–
কিন্তু সে কি
বিরহ-অনল, বসুন্ধরে ?
তা হলে বন-শোভিনী
জীবন যৌবন তাপে হারাত তাপিনী—
বিরহ দুরূহ দুহে হরে !
পুড়ি আমি অভাগিনী, চেয়ে দেখ না মেদিনি,
পুড়ে যথা বনস্থলী
ঘোর দাবানলে !
8
আপনি তো জান গো ধরণি
তুমিও তো ভালবাস ঋতুকুলপতি।
তার শুভ আগমনে
হাসিয়া সাজহ তুমি নানা আভরণে—
কামে পেলে সাজে যথা রতি !
অলকে ঝলকে কত ফুল-রত্ন শত শত !
তাহার বিরহ দুঃখ ভেবে
দেখ, ধনি।
৫
লোকে বলে রাধা কলঙ্কিনী।
তুমি তারে ঘৃণা কেনে কর, সীমন্তিনি ?
অনন্ত, জলধি নিধি—
এই দুই বরে তোমা দিয়াছেন বিধি,
তবু তুমি মধুবিলাসিনী২১।
শ্যাম মম প্রাণ স্বামী—শ্যামে হারায়েছি আমি,
আমার ছঃখে কি তুমি হও না দুঃখিনী ?
৬
হে মহি, এ অবোধ পরাণ
কেমনে
করিব স্থির কহ গো অামারে ?
বসন্তরাজ বিহনে
কেমনে
বাঁচ গো তুমি—কি ভাবিয়া মনে—
শেখাও সে সব রাধিকারে।
মধু কহে, হে সুন্দরি, থাক হে ধৈরয ধরি,
কালে মধু বসুধারে করে
মধুদান !
--------xXx--------
২১. মধুকাল—বসন্তকাল। বসন্তকালের প্রিয়।