হিমালয়াষ্টক
নম নম হিমালয় !
গিরিরাজ—তুমি,
মানচিত্রের মসীর চিহ্ন নয় !
বর্ষা-মেঘের মত গম্ভীর,
দিগ্বারণের বিপুল শরীর !
অবাধ বাতাস বাধ্য তোমার, তোমারে সে করে ভয়।
নম নম হিমালয় !
নম নম গিরিরাজ !
অযুত ঝোরার মুক্তা-ঝুরিতে উজ্জ্বল তব সাজ;
সূত্রবিহীন কুসুমের হার
উল্লাসে শোভা উরসে তোমার;
মৃদু-পর্ণিকা করিছে অঙ্গে পত্র-রচনা কাজ !
নম নম গিরিরাজ !
নম মহামহীয়ান্ !
নতশিরে যত গিরি-সামন্ত সম্মান করে দান।
গুহার গূঢ়তা, ভৃগুর ভ্রূকুটি,
তোমাতে রয়েছে পাশাপাশি ফুটি’,
ভীম অর্ব্বুদ, ভীষণ তুষার গাহিছে প্রলয়-গান !
নম মহামহীয়ান্ !
নম নম গিরিবর!
স্থির-তরঙ্গ-ভঙ্গিমাময় দ্বিতীয় রত্নাকর।
শিখরে শিখরে, শিলায় শিলায়,—
চপল-চমরী-পুচ্ছ-লীলায়,—
সাগর-ফেনের মত সাদা মেঘ নাচিছে নিরন্তর।
নম নম গিরিবর !
নম নম হিমবান্ !
মৌনে শুনিছ বিশ্ব-জনের দুঃখ-সুখের গান ;
নিখিল জীবের মঙ্গল-ভার
নিজ মস্তকে বহ অনিবার,
চির-অক্ষয় তুষার তোমার শত চূড়ে শোভমান;
নম নম হিমবান্ !
নম নম ধরাধর !
নাগবেণী আর সরল শালেতে মণ্ডিত কলেবর;
মেঘ উত্তরী’, তুষার-কিরীট,
ছত্র আকাশ, ধরা পাদপীঠ;
তুমি লভিয়াছ মৃত্যু-ভুবনে চির-অমরতা বর !
নম নম ধরাধর !
নম নম হিমাচল !
কত তপস্বী তব আশ্রয়ে পেয়েছে কাম্যফল;
মোরে দেছ তুমি নব আনন্দ,—
মহামহিমার বিশাল ছন্দ
তোমারে হেরিয়া পরাণ ভরিয়া উছলিছে অবিরল।
নম নম হিমাচল !
অতীত-সাক্ষী নম !
ক্ষুদ্র কবির ক্ষীণ কল্পনা অক্ষম ভাষা ক্ষম;
বাল্মীকি যার বন্দনা গান,
কালিদাস যার অন্ত না পান,—
সেই মহিমার ছবি আঁকিবার দুরাশা ক্ষম হে মম;
বিশ্ব-পূজিত
নম !সূত্র : কুহু ও কেকা — সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত [চতুর্থ সংস্করণ/১৯২৯]
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন