বন্দরে
শাস্ত্র-শাসন রইল মাথায়, তর্ক মিছে, —নেইক ফল ;
বন্দরে ওই দাঁড়িয়ে জাহাজ,—বেড়িয়ে পড় বন্ধুদল !
বাজে কথায় কান দিয়ো না, কান দিয়ো না ক্রন্দনে,
দুল্তে হবে সিন্ধু-দোলায় বিরাট্ বুকের
স্পন্দনে।
সাগর-পথে যাত্রা-নিষেধ? —লক্ষ্মীছাড়ার যুক্তি ও,
লক্ষ্মী আছেন সিন্ধুমাঝে—মুক্তাভরা শুক্তি ও ;
ফিরব মোরা দশটা দিকে রত্নাকরের বুক চিরে,
রত্ন নেব, মুক্তা নেব, সঙ্গে নেব লক্ষ্মীরে।
বাণিজ্যে সে বসত্ করে সিন্ধুজলে জন্ম তার।
সাগর সেঁচে আন্ব তারে আন্ব ঘরে পুনর্ব্বার;
আন্ব ঘরে মাথায় ক’রে বিদ্যা মৃত-সঞ্জীবন,
শুক্র ঋষির চরণ-ধূলায় প’রব মোরা জ্ঞানাঞ্জন।
দেবযানীরে রাখ্ব খুসী ব্রহ্মচর্য্য ছাড়ব
না,
আপনজনে ভুল্ব না রে পরের আদর কাড়ব না;
জালের কাঁঠি নিরেট খাঁটি, ছড়িয়ে পড়ে ছত্রাকার, —
মিল্লে নিধি,
জলের তলে থাক্বে না সে ছড়িয়ে আর; —
ঘেঁষে ঘেঁষে ঘনিয়ে এসে মিলিয়ে দেবে সকল
খুঁট, —
ধন ঘড়াটি ধরবে আঁটি’ লাখ্ আঙুলের লোহার মুঠ !
ছড়িয়ে দিয়ে জগৎমাঝে মিল্ব মোরা অন্তরে;
নূতন ক’রে পড়ব বাঁধা দেশের
মায়া-মন্তরে।
পাঁজি পুঁথি রইল মাথায়, জ্ঞানের বাড়া নেইক বল,
যৌবনের এই শুভক্ষণে বেরিয়ে পড় বন্ধুদল!
হিন্দু যখন সিন্ধুপারে করলে দখল যবদ্বীপ
কোথায় তখন ভট্টপল্লী কোথায় ছিলেন নবদ্বীপ?
কোথায় ছিল জাতির তর্ক—অর্কফলার আন্দোলন—
যেদিন রুদ্র সমুদ্রেরে বিজয় দিল আলিঙ্গন?
মেক্সিকোতে হ’ল যেদিন মঠপ্রতিষ্ঠা রাম-সীতার—
বিধান দিল কোন্ মনীষী? —খোঁজ রাখে কি পুরাণ তার ?
উড়ুপ-যোগে দু’দিন আগে হিন্দু যেত সিন্ধু পার,
মিশর, পেরু, রোম, জাপানে ছুট্ত নিয়ে পণ্যভার;
তাদের ধারা লুপ্ত হবে? থাক্বে শুধু পঞ্জিকা?
ধানের আবাদ উঠিয়ে দিয়ে ফসল হ’ল গঞ্জিকা?
করুক তবে সূক্ষ্ম বিচার শাস্ত্র নিয়ে পণ্ডিতে;
নিঃস্ব করুক নস্য-ধানী গোময়-লিপ্ত গণ্ডীতে।
চল্বে না কেউ মোদের নিয়ে? —সাগরের তো চল্ছে জল;
পরের কথা ভাব্ব পরে; —বেরিয়ে পড় বন্ধুদল।
সূত্র : কুহু ও কেকা — সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত [চতুর্থ সংস্করণ/১৯২৯]
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন