:::: সূচীপত্র ::::
kuhu-o-keka লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
kuhu-o-keka লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অবগুণ্ঠিতা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতা


আমি বসনে ঢেকেছি মুখ
দেখিতে তোমায় !
দূরে স'রে যাই, বুকে
আঁকিতে তোমায় !
তুমি অভিমান-ভরে ফিরে যেয়ে না,
নিরাশ নয়নে বঁধু তুমি চেয়ে না ;
লীলার ছল

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতা
আমি যদি চাই, অবগুণ্ঠনে
তুমি মুখখানি ঢাক ;
নয়ন ফিরালৈ, তবে, অনিমিখে
কেন গো চাহিয়া থাক !
এমনি করিয়া চিরদিন কিগো !
জড়ায়ে রাখিবে মোরে ?
তবু কাছাকাছি হবে না ? আমার
জীবন দিবে না ভ'রে ?
সহজিয়া
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতা

ফুলের যা' দিলে হ'বেনাকো ক্ষতি
অথচ আমার লাভ,
আমি চাই সেই সৌরভ,—শুধু—
অতনু অতল ভাব ।
আমি চাই সেই দূর-হ'তে-পাওয়া
আমি চাই মধু-মশ্‌গুল হাওয়া,
অন্তরে চাই শুধু রূপসীর
অরূপ আবির্ভাব,
যাহা দিলে তার ক্ষতি নাই, তবু
আমার পরম লাভ ৷
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতা
চার্ব্বাক ও মঞ্জুভাষা

বনপথে চলেছে চার্ব্বাক,
সূৰ্য্যতাপে স্পন্দিত সে বন ;
ক্লান্ত আঁখি, চিন্তিত, নির্ব্বাক্,
বিনা কাজে ফিরিছে ভুবন ।

হ্রদের দক্ষিণ কূলে ভিড়ি'
শ্যামলেখা শোভিছে শৈবাল,
মরালীর পক্ষে চন্ধু রাখি'
আঁখি মুদে চলেছে মরাল।

তীর তীরে ঘন সারি দিয়ে
দেবদারু গড়েছে প্ৰাচীর,
বনস্থলী-মধুচক্র ভরি'
রশ্মি-মধু ঝরিছে মদির।
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতা
গান


মুখখানি তার পদ্মকলি
ভাবের হাওয়ায় দোদুল্‌-দুল্‌ !
সুখের স্বপন, বুকের সে ধন,
দুখের আপন সে বুল্‌বুল্‌
ভুবন-ভোলা নয়ন দু'টি
খোঁজে না ছিল, নেয় না ত্রুটি,
ছুটির হাওয়া ছুটিয়ে সে দেয়,—
আপন-ভোলা মধুর ভুল !
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতা।
মধু মাসে

যে মাসেতে পুষ্পে মধু
মধু মধুকরের মুখে,—
হিয়া যখন হাওয়ার আগে
হয় গো মন্দির অধীর সুখে ;—
আঁখি আকুল অন্বেষণে
ফিরছে যখন বনে বনে,
জ্যোৎস্না-মদিরা

চন্দ্র ঢালিছে তন্দ্রা নয়নে,
       মল্লিকা বনে ঢালিছে মায়া 
ছায়ায় আর্দ্ৰ আলো খানি আজ
       আলো-মাখা ফিঁকে হাল্কা ছায়া !
সুদূর-স্বপন-বিধুর প্রাণ,
উঠিছে মৃদুল মধুর গান,
মৃদুল বাতাসে মৰ্ম্মর ভাষে
       উছসি' উঠিছে বনের কায়া !

মদন-মহোৎসবে

বন উপবন আলো ক'রে অশোক ফুটে আছে,
অশোক ফুলের রূপটি ঠাকুর ! চাইছি তোমার কাছে ;
চোখের দাবী মিট্‌লে পরে তখন খোঁজে মন,
তাই তো প্ৰভু ! সবার আগে রূপের আকিঞ্চন


মল্লিকা ফুল হাস্‌ছে হরি' হাওয়ার মগজ মন,
মনোহরণ বিদ্যাটি দাও—এ মোর নিবেদন ;
মনের ক্ষুধা মিটিয়ে দিতে শক্তি যেন হয়,—
নইলে, শুধু রূপের আদর—হয় না সে অক্ষয়
কু ?

বসন্তের প্রথম উষায়
ফুলদলে জাগাবে বলিয়া
বহিল দক্ষিণ বায়ু ;—কে আজি সুধায়
মুহুমুর্হু আনন্দে গলিয়া ?— 'কু ?'


মধু আলো, মধুর বাতাস
বুঝি তারে করেছে বিহ্বল,
ভুলে গেছে দ্বন্দ্ব, দ্বিধা দুঃখের আভাষ—
তাই সে সুধায় অবিরল—'কু ?'
দুই সুর

কোকিলকালো কোকিল রচে সুরের ফুলে ফুলঝুরি,
বসন্তে সে ভুলায়ে আনে হাওয়ায় করি' মন চুরি !
কুজ্ঝটিকা-কুটিল নভে বুলায় তূলি রঙ্গিলা,
দোলায় তৃণ-বল্লরীতে মঞ্জু ফুল-মঞ্জরী !

বনের যত মনের কথা সেই জেনেছে অন্তরে,
কিশোর কিশলয়ের আশা তারি সে সুরে সন্তরে !
শীতের গড়ে পাথর নড়ে-মূহুমুর্হু হয় ঢিলা
মোচন হ'ল বন্দী যত মুকুল কুহু-মন্তরে !
হিমালয়াষ্টক

             নম নম হিমালয় !
গিরিরাজতুমি, মানচিত্রের মসীর চিহ্ন নয় !
             বর্ষা-মেঘের মত গম্ভীর,
             দিগ্‌বারণের বিপুল শরীর !
অবাধ বাতাস বাধ্য তোমার, তোমারে সে করে ভয়
             নম নম হিমালয় !

             নম নম গিরিরাজ !
অযুত ঝোরার মুক্তা-ঝুরিতে উজ্জ্বল তব সাজ;
             সূত্রবিহীন কুসুমের হার
             উল্লাসে শোভা উরসে তোমার;
মৃদু-পর্ণিকা করিছে অঙ্গে পত্র-রচনা কাজ !
             নম নম গিরিরাজ !
বন্দরে

শাস্ত্র-শাসন রইল মাথায়, তর্ক মিছে, —নেইক ফল ;
বন্দরে ওই দাঁড়িয়ে জাহাজ,—বেড়িয়ে পড় বন্ধুদল !
বাজে কথায় কান দিয়ো না, কান দিয়ো না ক্রন্দনে,
দুল্‌তে হবে সিন্ধু-দোলায় বিরাট্‌ বুকের স্পন্দনে

সাগর-পথে যাত্রা-নিষেধ? —লক্ষ্মীছাড়ার যুক্তি ও,
লক্ষ্মী আছেন সিন্ধুমাঝেমুক্তাভরা শুক্তি ও ;
ফিরব মোরা দশটা দিকে রত্নাকরের বুক চিরে,
রত্ন নেব, মুক্তা নেব, সঙ্গে নেব লক্ষ্মীরে

বাণিজ্যে সে বসত্ করে সিন্ধুজলে জন্ম তার
সাগর সেঁচে আন্‌ব তারে আন্‌ব ঘরে পুনর্ব্বার;
আন্‌ব ঘরে মাথায় করে বিদ্যা মৃত-সঞ্জীবন,
শুক্র ঋষির চরণ-ধূলায় পরব মোরা জ্ঞানাঞ্জন
ঋষি টল্‌ষ্টয়

সঙ্কীর্ণ স্বার্থের লোভে ক্ষুণ্ণ ক্ষুব্ধ ছিল জগজন
অন্ধকূপে বন্দী সম; তুমি খুলে দিলে বাতায়ন,
ওগো ঋষি রুষিয়ার! মুক্ত রন্ধ্রে স্বর্গের বাতাস
প্রবেশিল অন্ধকূপে! বিশ্ববাসী বাঁচিল নিঃশ্বাস

ফেলি; ওগো টল্‌ষ্টয়! বিনাশিলে তুমি মহাভয়
মানবের; প্রচারিলে পৃথ্বীতলে বিশ্বাসের জয়
মহাবৈষম্যের মাঝে প্রচারিলে সাম্যের বারতা,
উচ্চারিলে, দ্রষ্টা! তুমি, মহামিলনের পূর্ব্বকথা!
দেশবন্ধু
(স্বর্গীয় রমেশচন্দ্র দত্তের অভ্যর্থনা উপলক্ষ্যে সাহিত্য-পরিষদে গীত)

বন্ধুর ভালে চন্দন-টীকা কণ্ঠে কমল-মালা,
দেশ-বন্ধুর শুভ আগমনে হৃদি-মন্দির আলা !
মাধবে মাধবী-কঙ্কণ বাঁধ বন্ধুর মণিবন্ধে,
লোক-বন্ধুর গৌরব-গাথা গাঁথ মনোরম ছন্দে;
বেদের সরস্বতী এসেছেন লইয়া বরণ-ডালা,—
ইন্দু-কিরণ-নিন্দিত যাঁর মুকুট-রশ্মি-জ্বালা !
বন্ধুর তরে তোরণ রচনা করেছে নূতন বর্ষ,—
নবীন পুষ্পে নব কিশলয়ে; উথলে নবীন হর্ষ!
বর্ষণ করে লাজ-অঞ্জলি কল্যাণী পুরবালা,
জনবন্ধুর আগমন-পথে লক্ষ কুসুম ঢালা
যক্ষের নিবেদন

পিঙ্গল বিহ্বল্‌ ব্যথিত নভতল্‌, কই গো কই মেঘ উদয় হও,
সন্ধ্যার তন্দ্রার মূরতি ধরি' আজ মন্দ্র-মন্থর বচন কও;
সূর্য্যের রক্তিম নয়নে তুমি মেঘ ! দাও হে কজ্জল পাড়াও ঘুম,
বৃষ্টির চুম্বন বিথারি' চলে যাওঅঙ্গে হর্ষের পড়ুক ধুম

বৃক্ষের গর্ভেই রয়েছে আজো যেইআজ নিবাস যার গোপনলোক
সেই সব পল্লব সহসা ফুটিবার হৃষ্ট চেষ্টায় কুসুম হোক্
গ্রীষ্মের হোক্ শেষ, ভরিয়া সানুদেশ স্নিগ্ধ গম্ভীর উঠুক্‌ তান,
যক্ষের দুঃখের কর হে অবসান, যক্ষ-কান্তার জুড়াও প্রাণ !
গ্রীষ্মের সুর

                            হায়!
                        বসন্ত ফুরায়!
                  মুগ্ধ মধু মাধবের গান
            ফল্গু সম লুপ্ত আজি, মুহ্যমান প্রাণ
      অশোক নির্ম্মাল্য-শেষ, চম্পা আজি পাণ্ডু হাসি হাসে,
ক্লান্ত কণ্ঠে কোকিলের যেন মুহুর্মুহু কুহুধ্বনি নিবে নিবে আসে!
দিবসের হৈম জ্বালা দীপ্ত দিকে দিকে, উজ্জ্বল-জাজ্জ্বল-অনিমিখ্‌,
      নিঃশ্বসিছে নিঃস্ব হাওয়া, হুতাশে মূর্চ্ছিত দশদিক্!
            রৌদ্র আজি রুদ্র ছবি, আকাশ পিঙ্গল,
                  ফুকারিছে চাতক বিহ্বল,—
                        খিন্ন পিপাসায়;
                             হায়!