:::: সূচীপত্র ::::
Somen-Chanda লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Somen-Chanda লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বপ্ন

ঠাণ্ডাটা আজ একটু বেশিই পড়িয়াছে, বাহিরেও কনকনে বাতাস, বেড়ার ফাঁক দিয়া সে বাতাস আসিয়া সকলের গায়ে লাগেএকপাশে একটি কুপি জুলিতেছেপ্রচুর ধোঁয়ায় মেশানো, লাল শিখাবাতাসে কড়া তামাকের গন্ধরাত এখন কয়টা হইয়াছে কেহ বলিতে পারে নামাঝে মাঝে কেবল কুকুরের ডাক ছাড়া গভীর নিস্তব্ধতা চারিদিকে

কলকেটি উপুড় করিয়া আর এক ছিলিম তামাকের আয়োজন করিতে গিয়া কানাই দেখিল, কৌটাতে তামাক নাইহাতের কাছেই ভেজানো দরজার দিকে চাহিয়া বলিল, 'একটু তামাক দে তো রে, দামি ?'

দামিনী কানাইর মেয়েকেবলমাত্র বাবার মুখের অদ্ভুত গল্পটার আকর্ষণেই এতরাত অবধি জাগিয়াছিলবলিল, 'তামাক তো নেই বাবা !'

'সে কী, কালই না অতগুলো পাতা কাটলাম ?' খাওয়ার মালিক যদিও কানাই একাই, তবু সে আশ্চর্য না হইয়া পারিল নাসঙ্গে সঙ্গে আর সকলেওভয়েরও তাদের সীমা নাই; আহা, অমন গল্পটি মাটি হইয়া যাইবে

কিন্তু দামিনী রক্ষা করিয়াছেকোথা হইতে খুঁজিয়া পাতিয়া এক ছিলিমের উপযোগী তামাক আনিয়া বাবার হাতে ফেলিলমেয়েটার বুদ্ধি আছে !
দাঙ্গা

লোকটি খুব তাড়াতাড়ি পল্টনের মাঠ পার হচ্ছিলোবোধহয় ভেবেছিল, লেভেল ক্রসিং-এর কাছ দিয়ে রেলওয়ে ইয়ার্ডে পড়ে নিরাপদে নাজিরাবাজার চলে যাবেতাহার হাতের কাছে বা কিছু দূরে একটা লোকও দেখা যায় নাসব শূন্য, মরুভূমির মতো শূন্যদূরে পিচ্‌ঢালা পথের ওপর দিয়ে মাঝে মাঝে দুই-একটি সুদৃশ্য মোটরকার হুস করে চলে যায় বটে, কিন্তু এত তীব্র বেগে যায় যে মনে হয় যেন এই মাত্র কেউ তাকেও ছুরি মেরেছে, আর সেই ছোরার ক্ষত হাত দিয়ে চেপে ধরে পাগলের মতো ছুটে চলেছেনির্জন রাস্তার ওপর মোটর গাড়ীর এমনি যাতায়াত আরও ভয়াবহ মনে হয়দূরে গবর্নর হাউসের গর্বময় গাম্ভীর্য মানুষকে উপহাস করেপথের পাশে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছের পাতা মৃদু আন্দোলিত হচ্ছেমাঠের ওপর কয়েকটা কাক কিসের আশায় হেঁটে বেড়াচ্ছে! অনেক দূরে একটা ইদুরের মতো ঘুরঘুর করে বেড়াচ্ছে কে? একটি সৈন্যঐ সৈন্যটি আজ তিনদিন ধরে এক জায়গায় ডিউটি দিয়ে আসছে

লোকটা মাঠ ছেড়ে রাস্তায় পড়লোতার পরনে ছেড়া ময়লা একখানা লুঙ্গি, কাঁধে ততোধিক ময়লা একটি গামছা, মাথার চুলগুলি কাকের বাসার মতো উস্কোখুস্কো, মুখটি করুণতার পায়ে অনেক ধুলো জমেছে, কোন গ্রামবাসী মনে হয়
একটি রাত

রাত অনেক
রাস্তায় লোকজন একটিও নেইএখন আশ্বিনের শেষ, তাই একটু শীতের আমেজ লাগেসুকুমার তার জামার কলারটি আরও টেনে ধরলোনিতান্ত অন্যমনস্ক হয়েও সে শুনতে পেলো, একটা বিড়াল মিউ মিউ করে কাতরস্বরে ডাকছে, হয়তো হঠাৎ কোন খোলা ড্রেনে পড়ে স্নান করে উঠেছেতাছাড়া ড্রেনের গন্ধও নাকে আসে, রাত্রির নিস্তব্ধতায় দিনের বেলার চেয়েও তীব্ৰদূরে একটা কেরোসিনের ল্যাম্প টিম্‌টিম্‌ করে জ্বলছেপাশেই একটা দীর্ঘ অস্পষ্ট ছায়া

সে পুরনো বাড়ীটার একটা ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে সুকুমার থাকে, সামনেই তার মস্ত বড়ো গেট, প্রায় অর্ধেকটা ভাঙা সর্বাঙ্গ লোনায় ধরেছেবাড়ী ঢুকতে গিয়ে সুকুমার দেখলো, লম্বা একটা লোক হঠাৎ কোথায় সাপের মত সরে পড়লোলোকটা কে সে বিষয়ে আর সন্দেহ নেইএদের ছায়া দেখলেও চিনতে কষ্ট হয় নাকিছুক্ষণ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে সুকুমার বাড়ী ঢুকে পড়লোভিতরে মা'র কাশির শব্দ শোনা যায়, সেই কাশিসুকুমার ডাকলো, 'মা ?'

মা'র বদলে ভোলা এসে হাজির হলো

ভোলা সুকুমারের কুকুর
ইঁদুর

আমাদের বাসায় ইঁদুর এত বেড়ে গেছে যে আর কিছুতেই টেকা যাচ্ছে না। তাদের সাহস দেখে অবাক হতে হয়। চোখের সামনেই, যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যদলের সুচতুর পদক্ষেপে অগ্রসর হওয়ার মতো ওরা ঘুরে বেড়ায়, দেয়াল আর মেঝের কোণ বেয়ে-বেয়ে তর্-তর্ করে ছুটোছুটি করে। যখন সেই নির্দিষ্ট পথে আকস্মিক কোনো বিপদ এসে হাজরি হয়, অর্থাৎ কোনো বাক্স বা কোনো ভারি জিনিসপত্র সেখানে পথ আগলে বসে, তখন সেটা অনায়াসে টুক্ করে বেয়ে তারা চলে যায়। কিন্তু রাত্রের আরও ভয়ংকর। এই বিশেষ সময়টাতে তাদের কার্যকলাপ আমাদের চোখের সামনে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শুরু হয়ে যায়। ঘরের যে কয়েকখানা ভাঙা কেরোসিন কাঠের বাক্স, কেরোসিনের অনেক পুরোনো টিন, কয়েকটা ভাঙা পিঁড়ি আর কিছু মাটির জিনিসপত্র আছে, সেখান থেকে অনবরতই খুট্-খুট্ টুং-টুং ইত্যাদি নানা রকমের শব্দ কানে আসতে থাকে। তখন এটা অনুমান করে নিতে আর বাকি থাকে না যে, ঝাঁক ন্যুব্জদেহ অপদার্থ জীব ওই কেরোসিন কাঠের বাক্সের ওপরে এখন রাতের আসর খুলে বসেছে।

যাই হোক, ওদের তাড়নায় আমি উক্ত্যক্ত হয়েছি, আমার চোখ কপালে উঠেছে। ভাবছি ওদের আক্রমণ করার এমন কিছু অস্ত্র থাকলেও সেটা এখনও কেন যথাস্থানে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। একটা ইঁদুর মারা কলও কেনার পয়সা নেই? আমি আশ্চর্য হব না, নাও থাকতে পারে।