স্বপ্ন
ঠাণ্ডাটা আজ একটু বেশিই পড়িয়াছে, বাহিরেও কনকনে বাতাস, বেড়ার ফাঁক দিয়া সে
বাতাস আসিয়া সকলের গায়ে লাগে। একপাশে একটি কুপি জুলিতেছে—প্রচুর ধোঁয়ায় মেশানো, লাল শিখা। বাতাসে কড়া তামাকের গন্ধ। রাত এখন কয়টা হইয়াছে কেহ বলিতে পারে না। মাঝে মাঝে কেবল কুকুরের
ডাক ছাড়া গভীর নিস্তব্ধতা চারিদিকে।
কলকেটি উপুড় করিয়া আর এক ছিলিম তামাকের আয়োজন করিতে গিয়া
কানাই দেখিল, কৌটাতে তামাক নাই। হাতের কাছেই ভেজানো দরজার দিকে চাহিয়া বলিল, 'একটু তামাক দে তো রে, দামি ?'
দামিনী কানাইর মেয়ে। কেবলমাত্র বাবার মুখের
অদ্ভুত গল্পটার আকর্ষণেই এতরাত অবধি জাগিয়াছিল। বলিল, 'তামাক তো নেই বাবা !'
'সে কী, কালই না অতগুলো পাতা কাটলাম ?' খাওয়ার মালিক যদিও কানাই একাই, তবু সে আশ্চর্য
না হইয়া পারিল না। সঙ্গে সঙ্গে আর সকলেও। ভয়েরও তাদের সীমা নাই; আহা, অমন গল্পটি মাটি হইয়া যাইবে ।
কিন্তু দামিনী রক্ষা
করিয়াছে। কোথা হইতে খুঁজিয়া পাতিয়া এক ছিলিমের উপযোগী তামাক আনিয়া বাবার হাতে ফেলিল। মেয়েটার বুদ্ধি আছে !