অপেরা
: বাংলায় 'গীতিনাট্য'। রবীন্দ্রনাথের কথায় 'সুরে নাটিকা'। আধুনিক অপেরার জন্ম
ষোড়শ শতাব্দীর শেষ দিকে । সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউরোপে অপেরা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই শতাব্দীর শেষ দিকে
নেপল্সের অপেরার দল সমগ্র ইউরোপ ভ্রমণ করেছিল। তখন অপেরার বিষয়বস্তু ছিল গ্রিক পুরাণ এবং
প্রাচীন ইতিহাস। অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে অপেরায় বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। ফরাসি দেশে লঘু রসাত্মক
কমিক অপেরার সৃষ্টি হয়, জার্মানিতেও সিরিয়াস
অর্থাৎ গুরুগম্ভীর অপেরার সঙ্গে লঘু রসাত্মক অপেরার উপাদানের মিশ্রণ করা হয়। মোটসার্ট এবং বেটোভেন্-এর
হাতে অপেরা শিল্প মর্যাদা লাভ করে। রোমান্টিক আন্দোলনের প্রভাবে অপেরার বিষয়বস্তু ও শিল্পরীতিতে
যথেষ্ট অভিনবত্ব দেখা যায়। রবীন্দ্রনাথের 'বাল্মীকি প্রতিভা', 'কালমৃগয়া', এবং 'মায়ার খেলা' অনেকাংশে পাশ্চাত্য অপেরার ধাঁচে লেখা হয়েছে। সংস্কৃত নাট্যশাস্ত্রে
নৃত্য-গীত-বাদ্যের সমম্বয়কে নাট্য তৌর্যত্রিক বলা হত। সাধারণভাবে যে সকল নাটকে গীতের প্রাধান্য
থাকে ও তাকে গীতিনাট্য বা অপেরা বলা হয়। [ গিরিশচন্দ্রের 'মায়াতরু', 'স্বপ্নের ফুল' ]।
অষ্টাদশ শতাব্দীর ইংল্যান্ড ‘কমিক অপেরা' (ফরাসিতে বলা হয়, কমেডি মিউজিকাল)
খুব জনপ্রিয় হয়। এই 'কমিক অপেরা' থেকে উদ্ভূত হয় 'গীতি প্রহসন' বা 'বারলেট্টা' (Burletta)। এই অপেরার বিষয়বস্তু
পৌরাণিক বা ঐতিহাসিক হয়। বৈশিষ্ট্য-ব্যঙ্গ, প্যারডি,
ক্যারিকেচার, আতিশয্য।
'গাথা অপেরা' (Ballad
Opera) —অপেরার আর একটি রূপ। পুরোনো কাহিনিনর্ভর অপেরা। [ ইংরেজ নাট্যকার গ্রে-র লেখা 'বেগারস অপেরা' (Beggar’s Opera, ১৭২৮)। বারলেট্টা গীতি প্রহসন থেকে উদ্ভূত হয় 'অদ্ভুত নাট্য' (Extravaganza)। বাংলায় এর
প্রথম প্রবর্তন করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর (ধ্যানভঙ্গ)। [গিরিশচন্দ্রের 'আবুহোসেন' ] । অপেরার কথাবার্তা সুরে বলা হয়। বাংলা অপেরা/গীতিনাট্যের ইতিহাসে আরও দুটি উল্লেখযোগ্য নাম হল
অতুলকৃষ্ণ মিত্র এবং ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ । ক্ষীরোদ প্রসাদ বিদ্যাবিনোদের 'আলিবাবা', 'বরুণা' প্রভৃতি গীতিনাট্য একসময় যথেষ্ট জনপ্রিয়তা
অর্জন করেছিল।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন