অবক্ষয়বাদ
: ইংরেজি প্রতিশব্দ 'ডেকেডেন্স' (Decadence) | সাধারণ অর্থে 'অবক্ষয়' শব্দটি শিল্পে ও সাহিত্যে এমন এক যুগ অথবা ক্রান্তিকাল সম্বন্ধে ব্যবহৃত হয়ে থাকে,
যেটি অব্যবহিত পূর্ববর্তী যুগের তুলনায় নীতিগতভাবে অবক্ষয়ী। বিশেষ অর্থে শব্দটি
বোঝায় শিল্প-সাহিত্যে অবক্ষয়ের আন্দোলন যেটি শুরু হয়েছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর ফরাসি
দেশে। এই আন্দোলনের প্রবক্তারা 'ল দেকাদঁ' (Le Decadent) নামে একটি মুখপত্র প্রকাশ করেছিলেন। শিল্পের স্বাতন্ত্র্য,
শিল্পীর সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতা ও সমাজ সম্বন্ধে উদাসীনতা,
প্রকৃতির চেয়ে কৌশলের প্রাধান্য, নবতর অনুভূতির সন্ধান-অবক্ষয় আন্দোলনের এইসব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে কলাকৈবল্যবাদের
বিশেষ যোগ ছিল। অবক্ষয়ের আর একটি বৈশিষ্ট্য ছিল শতাব্দীশেষের অসুস্থতা। ফরাসি লেখক তেওফিল গোতিয়ের এবং আমেরিকান
লেখক এডগার অ্যালান পো-র ১৮৩০-এর দশকে লেখা থেকে এর শুরু। এর চূড়ান্ত রূপ শার্ল বোদলেয়ার-এর 'লে ফ্ল্যর দ্য মাল' (Les Fleurs du mal, ১৮৫৭) কাব্যগ্রন্থে। ১৮৮০-র এবং ৯০-এর দশকে
শতাব্দীশেষের সংস্কৃতিতে প্রকৃতির সর্বাত্মক বিরোধিতাই ছিল গোতিয়ে ও বোদলেয়ার কথিত
অবক্ষয় আন্দোলনের মূল কথা। ফরাসি দেশে অবক্ষয় প্রতীকী আন্দোলনের সঙ্গে প্রায় সমর্থক হয়ে
দাঁড়িয়েছিল। ইংল্যান্ডে এর প্রথম প্রবর্তক জর্জ মুর (কনফেশন্স অব্ আ ইয়াং ম্যান,
১৮৮২)। ১৮৯৫ সালে অস্কার ওয়াইল্ড-এর কারাবরণের সঙ্গে সঙ্গেই সাহিত্যে
এই অবক্ষয় যুগের অবসান ঘটে। আরথার সাইমন্স তাঁর এক নিবন্ধে (দ্য ডেকেডেন্ট মুভমেন্ট ইন্
লিটারেচার) 'অবক্ষয়'কে এক অদ্ভুত অসুখ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, অতিবিলাসী সভ্যতা, তীব্র আত্মসচেতনতা,
কৃত্রিম ও চূড়ান্ত পরিশীলন এবং মানসিক ও নৈতিক বিকৃতি থেকেই 'অবক্ষয়ে'র জন্ম।
[সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'সংবর্ত' কাব্যের মধ্যে অবক্ষয়ের স্বর শোনা যায়। এছাড়া দ্রষ্টব্য মানিক
বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'চিহ্ন' ও 'চতুষ্কোণ' উপন্যাস, লোকনাথ ভট্টাচার্যের 'বাবুঘাটের কুমারী মাছ', সমরেশ বসুর 'বিবর',
দেবেশ রায়ের 'যযাতি' ও 'আপাতত শান্তিকল্যাণ
হয়ে আছে', জীবনানন্দ দাশের 'জীবনপ্রণালী' উপন্যাস ও 'নিরুপম যাত্রা' গল্প] ।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন