আরম্ভে
বাতাসে যে ব্যথা যেতেছিল ভেসে, ভেসে,
যে বেদনা ছিল বনের বুকেরি মাঝে,
লুকানো যা’ ছিল অগাধ অতল দেশে,
তারে ভাষা দিতে বেণু সে ফুকারি বাজে !
মুকের স্বপনে মুখর করিতে চায়,
ভিখারী আতুরে দিতে চায় ভালবাসা,
পুলক-প্লাবনে পরাণ ভাসাবে, হায়,
হৃদয়ে যে সুর গুমরি মরিতেছিল,
যে রাগিণী
কভু ফুটেনি কণ্ঠে—গানে,
শিহরি, মূরছি,—সেকি আজ ধরা দিল,-
কাঁপিয়া, দুলিয়া, ঝঙ্কারে—বীণাতানে ?
বিপুল সুখের আকুল অশ্রুধারা, —
মৰ্ম্মতলের মৰ্ম্মরময়ী ভাষা,—
ধ্বনিয়া তুলিবে—স্পন্দনে হ’য়ে হারা,
এমনি কামনা—এতখানি তার আশা !
কতদিন হ’ল বেজেছে ব্যাকুল বেণু,
মানসের
জলে বেজেছে বিভোল্ বীণা,
তারি
মূর্ছনা —তারি সুর রেণু, রেণু,—
আকাশে
বাতাসে ফিরিছে আলয়হীনা !
পরাণ আমার শুনেছে
সে মধু বাণী,
ধরিবারে তাই চাহে
সে তাহারে গানে,
হে মানসী-দেবী !
হে মোর রাগিণী-রাণী
সে কি ফুটিবে না 'বেণু ও বীণা'র তানে ?