নৈশ-তপর্ণ
জলের লীলা মিলিয়ে গেল নিবিড় আঁধারে,
আলোক-মালা উঠ্ল ফুটে নদীর দু’ধারে ;
নৌকা’পরে আলোক নড়ে,
নদীর জলে রশ্মি পড়ে ;
উঁকি দিয়ে ঢেউগুলি তায় ছুটেছে কোথা রে ; —
বুঝি বা কোন্ ঘূর্নি দিয়ে অতল পাথারে।
পরাণ আমার কেমন তা’তে হ’ল যে বিকল,
প’ড়্ল ঘন নিশাস, চোখেও প’ড়্ল এসে জল ।
অম্নি ক’রে আমার মনে উঁকি দিয়ে হায়,
কতই হাসি-মুখের ছবি নিমেষে লুকায় ;
কেউ বা ভাল বেসেছিল,
মধুর মৃদু হেসেছিল,
কার কাছে বা ততটুকুও হয়নিক’ আদায়,
কেউ বা গেছে মানে মানে, কেউ ঠেকেছে দায়
সবার তরেই আজকে আমি হ’য়েছি বিহ্বল ;
কেউ ডুবেছে অতল জলে, ভেসেছে বা কেউ,
ছুটেছে কেউ কুলের পানে মথন ক’রে ঢেউ ;
কেউ হরফে জলে ভাসে,
কূলের পানে চেয়ে হাসে,
কেউ বা ভাসে চোখের জলে, ত্রাসে মরে কেউ ;
কূলে ব'সে উদাস মনে কেউ বা গণে ঢেউ,
আজ্কে আমি সবার তরেই হ’য়েছি বিহ্বল,
প’ড়্ছে ঘন নিশাস, চোখের শুকায়নাক’ জল।
যে কেউ মোরে ক’রে গেছে স্নেহের অধিকারী,—
নয়ন-জলে জানাব আজ আমি সে সবারি ;
জানিয়ে যাব আরো বেশী,
হয়নি যেথা মেশামেশি,
ঘটেছিল যেথায় শুধু চোখের লেনা দেনা।
জানিয়ে দেব চোখের জলে আমি সবার কেনা ৷
আমি যে আজ সবার তরেই রেখেছি কেবল,
এক্টা ঘন নিশাস, চোখের একটি ফোঁটা জল ।