:::: সূচীপত্র ::::

৭৬

শনি

কেন মন্দ গ্রহ বলি নিন্দা তোমা করে
জ্যোতিষী ? গ্রহেন্দ্ৰ তুমি, শনি মহামতি !
ছয় চন্দ্র রত্নরূপে সুবর্ণ টোপরে
তোমার ; সুকটিদেশে পর, গ্রহ-পতি
হৈম সারসন, যেন আলোক-সাগরে !
সুনীল গগন-পথে ধীরে তব গতি
বাখানে নক্ষত্র-দল রাজ-মুরতি
সঙ্গীতে, হেমাঙ্গ বীণা বাজায়ে অম্বরে
হে চল রশ্মির রাশি, সুধি কো জনে,
কোন জীব তব রাজ্যে আনন্দে নিবাসে?
জন-শূন্য নহ তুমি, জানি আমি মনে,
হেন রাজা প্রজা-শুন্য,প্ৰত্যয়ে না আসে!
পাপ, পাপ-জাত মৃত্যু, জীবন-কাননে,
তব দেশে, কীটরূপে কুসুম কি নাশে ?

৭৭

সাগরে তরি

হেরিনু নিশায় তরি অপথ সাগরে,
মহাকায়া, নিশাচরী, যেন মায়া-বলে,
হিঙ্গিনী-রূপ ধরি, ধীরে ধীরে চলে,
রঙ্গে সুধবল পাখা বিস্তারি অম্বরে
রতনের চূড়া-রূপে শিরোদেশে জ্বলে
দীপাবলী, মনোহরা নানা বর্ণ করে,
শ্বেত, রক্ত, নীল, পীত, মিশ্রিত পিঙ্গলে
চারি দিকে ফেনাময় তরঙ্গ সুস্বরে
গাইছে আনন্দে যেন, হেরি সুন্দরী
বামারে, বাখানি রূপ, সাহস, আকৃতি
ছাড়িতেছে পথ সবে আস্তে ব্যস্তে সরি,
নীচ জন হেরি যথা কুলের যুবতী।
চলিছে গুমরে বামা পথ আলো করি,
শিরোমণি-তেজে যথা ফণিনীর গতি।

৭৮

সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর

সুরপুরে সশরীরে, শূর-কুল-পতি
অৰ্জ্জুন, স্বকাজ যথা সাধি পুণ্য-বলে
ফিরিলা কানন-বাসে ; তুমি হে তেমতি,
যাও সুখে ফিরি এবে ভারত-মণ্ডলে,
মনোদ্যানে আশা-লতা তব ফলবতী !
ধন্য ভাগ্য, হে সুভগ, তব ভব-তলে!
শুভ ক্ষণে গর্ভে তোমা ধরিলা সে সতী,
তিতিবেন যিনি, বৎস, নয়নের জলে
(স্নেহাসার!) যবে রঙ্গে বায়ু-রূপ ধরি
জনরব, দূর বঙ্গে বহিবে সত্বরে
তোমার কীৰ্ত্তি-বাত্তা! যাও দুতে, তরি,
নীলমণি-ময় পথ অপ সাগরে!
অদৃশ্যে রক্ষার্থে সঙ্গে যাবেন সুন্দরী
বঙ্গ-লক্ষ্মী! যাও, কবি আশীর্ব্বাদ করে !


৭৯

শিশুপাল

নর-পাল-কুলে তব জনম সুক্ষণে
শিশুপাল ! কহি শুন, রিপুরূপ ধরি,
ওই যে গরুড়-ধ্বজে গরজেন ঘনে
বীরেশ, ভব-দহে মুকতির তরি !
টঙ্কারি কার্ম্মুক, পশ হুহুঙ্কারে রণে ;
ছার সংসার-মায়া অস্তিমে পাসরি ;
নিন্দাছলে বন্দ, ভক্ত, রাজীব চরণে
জানি, ইষ্টদেব তব, নহেন হে অরি
বাসুদেব ; জানি আমি বাগ্দেবীর বরে
লৌহদন্ত হল, শুন, বৈষ্ণব সুমতি,
ছিঁড়ি ক্ষেত্র-দেহ যথা ফলবান করে
সে ক্ষেত্রে ; তোমায় ক্ষণ যাতনি তেমতি
আজি, তীক্ষ্ম শর-জালে বধি সমরে,
পাঠাবেন সুবৈকুণ্ঠে সে বৈকুণ্ঠ-পতি


১. উপগ্রহ বোঝাতে চন্দ্র শব্দের ব্যবহার। শনিগ্রহের ছয়টি উপগ্রহ। প্রকৃতপক্ষে আটটি।
২. কোমরবন্ধ।
৩. গর্ব।
৪. রবীন্দ্রনাথের অগ্রজ (১৮৬৫-১৯৪২) ।
৫.৬. মহাভারতের প্রসঙ্গ।
৭. অল্প সময়ের জন্য ক্লেশ দিচ্ছি।

সূত্র : মধুসূদন রচনাবলী-সব্যসাচী রায় (সম্পাদনায়)