অমৃত-কণ্ঠ
শুনেছি, শুনেছি কণ্ঠ তব,
পুনঃ, আজি বহুদিন পরে,
প্রাণে মনে জেগেছে উৎসব,
রোমাঞ্চ সকল কলেবরে !
উৎকর্ণ, উদ্গ্ৰীব হ'য়ে আছি, আবার শুনিতে ওই স্বরে !
শুনেছি, শুনেছি কণ্ঠ তব,
পুনঃ, আজি বহুদিন পরে,
প্রাণে মনে জেগেছে উৎসব,
রোমাঞ্চ সকল কলেবরে !
উৎকর্ণ, উদ্গ্ৰীব হ'য়ে আছি, আবার শুনিতে ওই স্বরে !
নিশান্তের শুকতারা সম
পরিপূর্ণ লাবণ্যের রসে,
সঙ্গীত তোমার, নিরুপম !
হর্ষ-ধারা অন্তরে বরষে ;
দিবসে কোথায় ডুবে যায়, অতি ক্ষীণ, অতি মূছ যে সে।
পূর্ণ, পুষ্ট মন্দার মুকুল,—
নন্দনের লতাচ্যুত হ'য়ে,
তোমার ও সঙ্গীতে আকুল,—
অঙ্গে মোর পড়িল লুটায়ে,
প্রথম পাপ্ড়ি যে সময়ে, এলায়ে পড়িবে মধুবায়ে।
পরিপূর্ণ লাবণ্যের রসে,
সঙ্গীত তোমার, নিরুপম !
হর্ষ-ধারা অন্তরে বরষে ;
দিবসে কোথায় ডুবে যায়, অতি ক্ষীণ, অতি মূছ যে সে।
পূর্ণ, পুষ্ট মন্দার মুকুল,—
নন্দনের লতাচ্যুত হ'য়ে,
তোমার ও সঙ্গীতে আকুল,—
অঙ্গে মোর পড়িল লুটায়ে,
প্রথম পাপ্ড়ি যে সময়ে, এলায়ে পড়িবে মধুবায়ে।
ও সঙ্গীত আঙুরের ফল,
মৃদুকায় রসের ব্যথায়,
অধরের পীড়নে কোমল
ভেঙে পড়ে, এক্টি কথায় ;
বিন্দু—দুই, স্নিগ্ধ, সুমধুর রস দিয়—মিলায় কোথায়।
মৃদুকায় রসের ব্যথায়,
অধরের পীড়নে কোমল
ভেঙে পড়ে, এক্টি কথায় ;
বিন্দু—দুই, স্নিগ্ধ, সুমধুর রস দিয়—মিলায় কোথায়।
বর্ষণান্তে মুক্তাফল সম,—
পল্লবাগ্রে যাহা শোভা পায়,—
সন্ধ্যাসূর্য্য,—যাহে অকুপম
সপ্ত বর্ণে—লীলায় সাজায়—
সে যেন গো তোমার সঙ্গীতে, লয় দিয়া সলিলে মিলায় !
পল্লবাগ্রে যাহা শোভা পায়,—
সন্ধ্যাসূর্য্য,—যাহে অকুপম
সপ্ত বর্ণে—লীলায় সাজায়—
সে যেন গো তোমার সঙ্গীতে, লয় দিয়া সলিলে মিলায় !
স্বাতী হ'তে ঝরি' যে শিশির
মহামণি হয় সিন্ধুতলে,
তুলনা সে—আজি এ নিশির
অন্ধকারে যে সুর উথলে ;—
আনন্দ-চঞ্চল করি' মোরে, আকুল করিয়া তারাদলে।
মহামণি হয় সিন্ধুতলে,
তুলনা সে—আজি এ নিশির
অন্ধকারে যে সুর উথলে ;—
আনন্দ-চঞ্চল করি' মোরে, আকুল করিয়া তারাদলে।
জননীর চুম্বনের মত
ও সু-স্বর, পবিত্র, কোমল,—
মন্ত্রপূত আশীৰ্ব্বাণী-যুত,
হৰ্ষ-সিগ্ধ যেন শান্তিজল ;
সদ্য-ঝরা শেফালি পরশে, হ'ল যেন শরীর শীতল !
ও সু-স্বর, পবিত্র, কোমল,—
মন্ত্রপূত আশীৰ্ব্বাণী-যুত,
হৰ্ষ-সিগ্ধ যেন শান্তিজল ;
সদ্য-ঝরা শেফালি পরশে, হ'ল যেন শরীর শীতল !
নক্ষত্র জানিত যদি গান,
ভাবিতাম গাহিতেছে তা'রা ;
বাণীর বীণার মধু তান !
অমরার—অমৃতের ধারা !
ভাবিতাম গাহিতেছে তা'রা ;
বাণীর বীণার মধু তান !
অমরার—অমৃতের ধারা !
তারার পরশ বুঝি পাও,—তাই গাও হ'য়ে আত্মহারা !
আঁখি কভু দেখেনি তোমায়,
আঁখি কভু দেখেনি তোমায়,
হে অনন্ত-আকাশ-বিহারী:
ফের' তুমি তারায়, তারায়,—
নক্ষত্রের কূলে কূলে, মরি,
পক্ষ যেন আঁখির পলকে,—আঁখির পলকে যাও সরি'।
বড় সাধ, শিশুকাল হ'তে,
হে সুকণ্ঠ ! চিনিতে তোমায় ;
পাইনি সন্ধান কোনো মতে,
পাইনি তোমার পরিচয় ;
কত জনে সুধায়েছি নাম,—বলিতে পারে না কেহ, হায় !
হে সুকণ্ঠ ! চিনিতে তোমায় ;
পাইনি সন্ধান কোনো মতে,
পাইনি তোমার পরিচয় ;
কত জনে সুধায়েছি নাম,—বলিতে পারে না কেহ, হায় !
সুধায়েছি কবিজন পাশে,
সুধায়েছি কৃষক-বধূরে ;
কেহ শুনি' অঙ্গরালে হাসে,
কেহ হায় চলে' যায় দূরে;
কোন্ দেশে জনম তোমার ? কি বা নাম—কে বলিবে মোরে ?
সুধায়েছি কৃষক-বধূরে ;
কেহ শুনি' অঙ্গরালে হাসে,
কেহ হায় চলে' যায় দূরে;
কোন্ দেশে জনম তোমার ? কি বা নাম—কে বলিবে মোরে ?
নাম তব থাকে, নাহি থাকে,
ডাকিব 'অমৃত-কণ্ঠ' ব'লে ;
ভালবেসেছে যা ব'লে ডাকে,
তাহাতেই পরাণ উথলে ;
হে অমৃত-কণ্ঠ ! পাখী মোর, তোর গানে চক্ষু ভরে জলে।
ডাকিব 'অমৃত-কণ্ঠ' ব'লে ;
ভালবেসেছে যা ব'লে ডাকে,
তাহাতেই পরাণ উথলে ;
হে অমৃত-কণ্ঠ ! পাখী মোর, তোর গানে চক্ষু ভরে জলে।
গান—তব শোনে বহু জনে,
না থাকে বা থাকে পরিচয় ;
শুনেছি হে, ওই গান শুনে,
না থাকে বা থাকে পরিচয় ;
শুনেছি হে, ওই গান শুনে,
গর্ভশায়ী শিশু স্তব্ধ রয়;
যতদিন নাহি এস ফিরে, ততদিন ভূমিষ্ট না হয়।
যতদিন নাহি এস ফিরে, ততদিন ভূমিষ্ট না হয়।
গাও, তবে, গাওহে আবার,
হৰ্ষ-শিশু লভিবে জনম !
সুধাপায়ী ! চন্দ্রিকা উদ্গার
কর পুন: স্নিগ্ধ মনোরম ;
কোকিল পাপিয়া চাতকেরা স্তন্ধ হ'ল, গাও নিরুপম
যাহা কিছু মনোজ্ঞ-মধুর,
যাহা কিছু পবিত্র-সুন্দর,
যত আছে ঈপ্সিত-সুদূর,
—চির মুগ্ধ আমার অন্তর—
বলে, পাখী,শীর্ষে সবাকার—হরষ-আপ্লুত ওই স্বর।
হৰ্ষ-শিশু লভিবে জনম !
সুধাপায়ী ! চন্দ্রিকা উদ্গার
কর পুন: স্নিগ্ধ মনোরম ;
কোকিল পাপিয়া চাতকেরা স্তন্ধ হ'ল, গাও নিরুপম
যাহা কিছু মনোজ্ঞ-মধুর,
যাহা কিছু পবিত্র-সুন্দর,
যত আছে ঈপ্সিত-সুদূর,
—চির মুগ্ধ আমার অন্তর—
বলে, পাখী,শীর্ষে সবাকার—হরষ-আপ্লুত ওই স্বর।
বহুদিন, বহুদিন পরে,
পাখী—তোর পেয়েছি রে সাড়া !
বহুদিন, বহুদিন পরে,
প্রাণ মোর পেয়েছে রে ছাড়া !
সাড়া দেছে অন্তরের বীণা, গানের স্পন্দনে পেয়ে নাড়া !
পাখী—তোর পেয়েছি রে সাড়া !
বহুদিন, বহুদিন পরে,
প্রাণ মোর পেয়েছে রে ছাড়া !
সাড়া দেছে অন্তরের বীণা, গানের স্পন্দনে পেয়ে নাড়া !
আজ, পাখী, সাধ হয় ফিরে,
ফিরিবারে তারায়, তারায় ;—
ব্যগ্র চোখে, সমুন্নত শিরে,
ছেড়ে যেতে পুরানো ধরায় ;—
বাঁশীর এক্টি রন্ধ খুলি', নিঃশেষিতে সঙ্গীতে ত্বরায়।
তার পর, নৈশ অন্ধকারে,
তোর মত যাব মিলাইয়া ;
কাজ নাই আনন্দ ঝঙ্কারে,
চলে' যাব শুষিরে গাহিয়া ;
যাহা গাই,—তোর মত যেন, যেতে পারি পুলক ঢালিয়া।
তার পর, কে চিনে না চিনে,
রাখিব না সন্ধান তাহার ;
কণ্ঠ যদি পূর্ণ হয় গানে
তোর মত গাহিব আবার
বেশীক্ষণ রহিব না আমি, গান শেষে রহিব না আর।
ফিরিবারে তারায়, তারায় ;—
ব্যগ্র চোখে, সমুন্নত শিরে,
ছেড়ে যেতে পুরানো ধরায় ;—
বাঁশীর এক্টি রন্ধ খুলি', নিঃশেষিতে সঙ্গীতে ত্বরায়।
তার পর, নৈশ অন্ধকারে,
তোর মত যাব মিলাইয়া ;
কাজ নাই আনন্দ ঝঙ্কারে,
চলে' যাব শুষিরে গাহিয়া ;
যাহা গাই,—তোর মত যেন, যেতে পারি পুলক ঢালিয়া।
তার পর, কে চিনে না চিনে,
রাখিব না সন্ধান তাহার ;
কণ্ঠ যদি পূর্ণ হয় গানে
তোর মত গাহিব আবার
বেশীক্ষণ রহিব না আমি, গান শেষে রহিব না আর।
হে অমৃত-কণ্ঠ ! হে সুদূর !
মূৰ্ত্তিমান্ সুর ! সুধাধার !
কণ্ঠ মোর করহে মধুর,
কর মোরে সঙ্গী আপনার,
গান গেয়ে, উল্লাসে উড়িয়া, দিব মোরা অসীমে সাঁতার !
মূৰ্ত্তিমান্ সুর ! সুধাধার !
কণ্ঠ মোর করহে মধুর,
কর মোরে সঙ্গী আপনার,
গান গেয়ে, উল্লাসে উড়িয়া, দিব মোরা অসীমে সাঁতার !
বেদনার বন্ধনের পারে,
চল, পাখী, লইয়া আমায়—
কষ্ট—যেথা, ফিরেনা শিকারে,
সব ব্যথা সঙ্গীতে ফুরায় ;
বাঁশীর একটি রন্ধ্র খুলি'—সব গান শেষ হ'য়ে যায়।
চল, পাখী, লইয়া আমায়—
কষ্ট—যেথা, ফিরেনা শিকারে,
সব ব্যথা সঙ্গীতে ফুরায় ;
বাঁশীর একটি রন্ধ্র খুলি'—সব গান শেষ হ'য়ে যায়।
কর মোরে, অতনু-সুন্দর !
পরিপূর্ণ সঙ্গীতের রসে ;
এই মহা তমিস্র-সাগর
আসে যেন সঙ্গীতের বশে ;
তারার জনম দিয়া গানে, দীপ্ত কর এ বিজন দেশে।
অন্ধকারে পথভ্রান্ত জন,
পায় যেন সঙ্গীতে আশ্বাস ;—
ঘুচে যেন প্রাণের ক্ৰন্দন,
ফেলিতে না হয় দীর্ঘশ্বাস,—
অন্ধকারে পায় দেখিবারে—জ্যোতিৰ্ম্ময় আপন নিবাস !
পরিপূর্ণ সঙ্গীতের রসে ;
এই মহা তমিস্র-সাগর
আসে যেন সঙ্গীতের বশে ;
তারার জনম দিয়া গানে, দীপ্ত কর এ বিজন দেশে।
অন্ধকারে পথভ্রান্ত জন,
পায় যেন সঙ্গীতে আশ্বাস ;—
ঘুচে যেন প্রাণের ক্ৰন্দন,
ফেলিতে না হয় দীর্ঘশ্বাস,—
অন্ধকারে পায় দেখিবারে—জ্যোতিৰ্ম্ময় আপন নিবাস !
মুক্তি-শিশু—জন্মেনি এখন'
আছে কোন্ গানের প্রত্যাশে !
পাখী ! পাখী ! তোমার মতন
গান মোরে শিখাও হে এসে !
মুক্তি-শিশু আসুক্ জগতে,—পূর্ণ হ'ক ত্ৰিলোক হরষে !আছে কোন্ গানের প্রত্যাশে !
পাখী ! পাখী ! তোমার মতন
গান মোরে শিখাও হে এসে !