আন-গগনের আলো
আমার কুঞ্জে লতার দুয়ার নিবিড় ছিল না ভালো,
তাই ফাঁকি দিয়ে পশেছে আজিকে আন-গগনের আলো;
স্বজনি—শঙ্খ বাজা,—
আজ আসিয়াছে হৃদয়ে আমার, আমার হৃদয়-রাজা !
অরুণ চরণে শরত প্রভাত—
আজি এল যেন তারি সাথে সাথ,
তারি সাথে সাথ নিবাত সলিলে
দুলিয়া উঠিল আলো;
স্তব্ধ হিয়ার দু'কূল প্লাবিয়া কিরণে ভরিয়া গেল।
কুঞ্জভবনে লতার দুয়ারে পল্লবদল নাচে,
অযুত গ্রন্থি তন্তুলতার খুলিলে পরাণ বাঁচে,
উম্মাদ ভালবাসা !
ছি'ড়ে দিরে তুমি সব বন্ধন, তুমি কেড়ে নিলে বাসা।
শরতের আলো— ত্রিলোক জুড়িয়া—
তারি সাথে হিয়া গেল যে উড়িয়া,
বাতাসে চড়িয়া আর কতদূর
ছুটিব তোমার পাছে,
কোথা যেতে চাও, কোথা লয়ে যাও, হায় গো কাহার কাছে?
আমার কুঞ্জদুয়ারের পাশে ছিন্ন লতিকা গুলি—
ব্যথিতের মত চেয়ে আছে, হের, মাখিয়া ধরার ধূলি।
ওগো ! সমুদ্র-পাখী,—
তবু চলিয়াছি তোমারি সঙ্গে ব্যগ্র-ব্যাকুল আঁখি।
ভাঙা হৃদয়ের,— নয়ন জলের—
মরু,হ্রদ; কত মরীচি-ছলের ;
হাসির জ্যোৎস্না সুখের লহরে
ঘুম যায় নিরিবিলি ;
বিশ্ব-হিয়ার পরতে পরতে হিয়া মোর গেল মিলি।
বিশ্বে আলোক ফুটেনি, তখন, তুমি এসেছিলে যবে,—
আলোক-আলোকে সাতারি কখনো তিমিরে কখনো ডুবে।
বিশ্ব-ভুবনচারী !—
সৃষ্টি-ছাড়া, কি মন্ত্রের বলে, হৃদয় লইলে কাড়ি !
নিমেষে ফুটাও নিখিলের ছবি,
নিমেষে বুঝাও বুঝিবার সবি,
নিমেষে ছুটাও দ্যুলোকে ভূলোকে
মোহন বংশী রবে ;
আমিও ছুটেছি, সাঁতারি আলোকে—আঁধারে কখনো ডুবে।
আমার কুঞ্জে লতার দুয়ার নিবিড় ছিল না ভালো,
তাই ফাঁকি দিয়ে পশেছে আজিকে আন-গগনের আলো;
স্বজনি—শঙ্খ বাজা,—
আজ আসিয়াছে হৃদয়ে আমার, আমার হৃদয়-রাজা !
অরুণ চরণে শরত প্রভাত—
আজি এল যেন তারি সাথে সাথ,
তারি সাথে সাথ নিবাত সলিলে
দুলিয়া উঠিল আলো;
স্তব্ধ হিয়ার দু'কূল প্লাবিয়া কিরণে ভরিয়া গেল।
কুঞ্জভবনে লতার দুয়ারে পল্লবদল নাচে,
অযুত গ্রন্থি তন্তুলতার খুলিলে পরাণ বাঁচে,
উম্মাদ ভালবাসা !
ছি'ড়ে দিরে তুমি সব বন্ধন, তুমি কেড়ে নিলে বাসা।
শরতের আলো— ত্রিলোক জুড়িয়া—
তারি সাথে হিয়া গেল যে উড়িয়া,
বাতাসে চড়িয়া আর কতদূর
ছুটিব তোমার পাছে,
কোথা যেতে চাও, কোথা লয়ে যাও, হায় গো কাহার কাছে?
আমার কুঞ্জদুয়ারের পাশে ছিন্ন লতিকা গুলি—
ব্যথিতের মত চেয়ে আছে, হের, মাখিয়া ধরার ধূলি।
ওগো ! সমুদ্র-পাখী,—
তবু চলিয়াছি তোমারি সঙ্গে ব্যগ্র-ব্যাকুল আঁখি।
ভাঙা হৃদয়ের,— নয়ন জলের—
মরু,হ্রদ; কত মরীচি-ছলের ;
হাসির জ্যোৎস্না সুখের লহরে
ঘুম যায় নিরিবিলি ;
বিশ্ব-হিয়ার পরতে পরতে হিয়া মোর গেল মিলি।
বিশ্বে আলোক ফুটেনি, তখন, তুমি এসেছিলে যবে,—
আলোক-আলোকে সাতারি কখনো তিমিরে কখনো ডুবে।
বিশ্ব-ভুবনচারী !—
সৃষ্টি-ছাড়া, কি মন্ত্রের বলে, হৃদয় লইলে কাড়ি !
নিমেষে ফুটাও নিখিলের ছবি,
নিমেষে বুঝাও বুঝিবার সবি,
নিমেষে ছুটাও দ্যুলোকে ভূলোকে
মোহন বংশী রবে ;
আমিও ছুটেছি, সাঁতারি আলোকে—আঁধারে কখনো ডুবে।