বর্ষায়
শ্লথ, পরিণত— কদম কেশর
ঝরিছে এ পাশে ও পাশে ;
মৃদু-বিকশিত কেতকীর রেণু
ক্ষরিছে বাতাসে বাতাসে।
মেঘ আসে যায় বারেবার,
ঝরে বারিধারা, কদম কেশর,
মিলে মিশে একাকার ।
বহুদিন পরে চলিয়াছি গ্রামে,
নূতন হয়েছে পুরাণো ।
চোখের উপরে বেড়ে ওঠে ধান,—
দায় হ’ল আঁখি ফিরানো।
নাচে বুলবুলি আর ফিঙে,
জাল ফেলে ফেলে জেলের ছেলেরা
বেয়ে নিয়ে চলে ডিঙে ৷
ধীরে মন্থরে গ্রামের ধরণে
চলেছে গ্রামের লোকেরা,
অলস গমনে জল বহে বধূ,
মেঘে মিশে যায় বকেরা ।
কা’রে নাম ধ’রে ডাকে দূরে,
দূর হতে তার ফিরে আসে সাড়া
মাঠে মাঠে ঘুরে ঘুরে ।
গাভী সাথে লয়ে এক পথ দিয়ে
চলেছে চাষার ঝিয়ারী,
নূতন বয়স, সরস শরীর,
চাহনি নূতন তাহারি ;
তা’রে এ দিঠি শিখা’ল কে গো ?
বয়সের রীতি কে শিখায় নিতি
এ বিজনে, ব’লে দে গো !
সে যে অপরূপ বরষার মত,—
আপনি উঠে গো ভরিয়া,
সে যে সচকিত দামিনীর মত
প্রাণ আগে লয় হরিয়া !
ধানের ক্ষেতেরি মত,—
চোখের উপরে বাড়ে পলে পলে
ঢেউ উঠে শত শত ।
সাথে গাভী লয়ে পশিল কুটীরে
কিশোরী চাষার ঝিয়ারী,
পুলকে অমনি উঠিল ডাকিয়া
কুকুর—তাহার দুযারী !
হেথা জল নেমে এল হেনে,
বাদলের ধারা বাদ সাধিল রে
চিকের পর্দ্দা টেনে !