:::: সূচীপত্র ::::

৩৬

বসন্তে একটি পাখীর প্রতি


নহ তুমি পিক, পাখি, বিখ্যাত ভারতে,
মাধবের বাৰ্ত্তাবহ ; যার কুহরণে
ফোটে কোটি ফুল-পুঞ্জ মঞ্জু কুঞ্জবনে !
তবুও সঙ্গীত-রঙ্গ করিছ যে মতে
গায়ক, পুলক তাহে জনমে মনে !
মধুময় মধুকাল সৰ্ব্বত্র জগতে ,
কে কোথা মলিন কবে মধুর মিলনে,
বসুমতী সতী যবে রত প্রেমব্রতে?
দুরন্ত কৃতান্ত-সম হেমন্ত দেশে
নিৰ্দ্দয় ; ধরার কষ্টে দুষ্ট তুষ্ট অতি !
না দেয় শোভিতে কভু ফুলরত্মে কেশে,
পরায় ধবল বাস বৈধব্যে যেমতি !
ডাক তুমি ঋতুরাজে, মনোহর বেশে
সাজাতে ধরায় আসি, ডাক শীঘ্ৰগতি !

৩৭

প্রাণ


কি সুরাজ্যে, প্রাণ, তব রাজ-সিংহাসন !
বাহু-রূপে দুই রথী, দুর্জয় সমরে,
বিধির বিধানে পুরী তব রক্ষা করে ;
পঞ্চ অনুচর তোমা সেবে অনুক্ষণ 
সুহাসে ঘ্ৰাণেরে গন্ধ দেয় ফুলবন ;
যতনে শ্রবণ আনে সুমধুর স্বরে ;
সুন্দর যা কিছু আছে, দেখায় দর্শন
ভূতলেসুনীল নভে, সৰ্ব্ব চরাচরে !
স্পর্শ, স্বাদ, সদা ভোগ যোগায়, সুমতি !
পদরূপে দুই বাজী তব রাজ-দ্বারে ;
জ্ঞান-দেব মন্ত্রী তবভবে বৃহস্পতি ;
সরস্বতী অবতার রসনা সংসারে !
স্বর্ণস্রোতোরূপে লহু, অবিরল-গতি,
বহি অঙ্গে, রঙ্গে ধনী করে হে তোমারে !

৩৮

কল্পনা


লও দাসে সঙ্গে রঙ্গে, হেমাঙ্গি কল্পনে,
বাগ্‌দেবীর প্রিয়সখি, এই ভিক্ষা করি ;
হায়, গতিহীন আমি দৈব-বিড়ম্বনে,
নিকুঞ্জ-বিহারী পাখী পিঞ্জর-ভিতরি !
চল যাই মহানন্দে গোকুল-কাননে,
সরস বসন্তে যথা রাধাকান্ত হরি
নাচিছেন, গোপীচয়ে নাচায়ে ; সঘনে
পূরি বেণুরবে দেশ কিম্বা শুভঙ্করি,
চল লো, আতঙ্কে যথা লঙ্কায় অকালে
পূজেন উমায় রাম, রঘুরাজ-পতি,
কিম্বা সে ভীষণ ক্ষেত্রে, যথা শরজালে
নাশিছেন ক্ষত্ৰকুলে পার্থ মহামতি
কি স্বরগে, কি মরতে, অতল পাতালে,
নাহি স্থল যথা, দেবি, নহে তব গতি !

৩৯

রাশি-চক্র


রাজপথে, শোভে যথা, রম্য-উপবনে,
বিরাম-আলয়বৃন্দ ; গড়িলা তেমতি
দ্বাদশ মন্দির বিধি, বিবিধ রতনে,
তব নিত্য পথে শূন্যে, রবি, দিনপতি !
মাস কাল প্রতি গৃহে তোমার বসতি,
গ্রহেন্দ্র ; প্রবেশ তব কখন সুক্ষণে,
কখন বা প্রতিকূল জীব-কুল প্রতি !
আসে বিরামালয়ে সেবিতে চরণে
গ্রহব্রজ ; প্রজাব্র, রাজাসন-তলে
পূজে রাজপদ যথা; তুমি তেজাকর,
হৈমময় তেজঃ-পুঞ্জ প্রসাদের ছলে,
প্রদান প্রসন্ন ভাবে সবার উপর।
কাহার মিলনে তুমি হাস কুতূহলে,
কাহার মিলনে বাম, শুনি পরস্পর।

১. কবি স্বয়ং পাদটীকা করেছেন ফরাসীস্‌ দেশে। 
২. রাধাকৃষ্ণপ্রেমলীলার প্রসঙ্গ।
৩. রামায়ণের লঙ্কাকাণ্ডের প্রসঙ্গ।
৪. মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের প্রসঙ্গ।



সূত্র : মধুসূদন রচনাবলী-সব্যসাচী রায় (সম্পাদনায়)