৪০
সুভদ্রা হরণ
তোমার হরণ-গীত গাব বঙ্গাসরে
নব তানে, ভেবেছিনু সুভদ্রা সুন্দরি ;
কিন্তু ভাগ্যদোষে, শুভে, আশার লহরী
শুখাইল, যথা গ্রীষ্মে জলরাশি সরে !
ফলে কি ফুলের কলি যদি প্রেমাদরে
না দেন শিশিরামৃত তারে বিভাবরী ?
ঘৃতাহুতি না পাইলে, কুণ্ডের ভিতরে,
বৈশ্বানর১— দুরদৃষ্ট মোর, চন্দ্রাননে,
কিন্তু (ভবিষ্যৎ কথা কহি) ভবিষ্যতে
ভাগ্যবান্তর কবি, পূজি দ্বৈপায়নে,২—
ঋষি-কুল-রত্ন দ্বিজ গাবে লো ভারতে
তোমার হরণ-গীত ; তুষি বিজ্ঞ জনে,
লভিবে সুযশঃ, সাঙ্গি৩— এ সঙ্গীত-ব্রতে !
8১
মধুকর
শুনি গুন গুন ধ্বনি তোর এ কাননে,
মধুকর, এ পরাণ কাঁদে রে বিষাদে !
ফুল-কুল-বধূ দলে সাধিস্ যতনে
অনুক্ষণ, মাগি ভিক্ষা অতি মৃদু নাদে,
তুমকী৪ বাজায়ে যথা রাজার তোরণে
ভিখারী, কি হেতু তুই ? ক৫ মোরে,
কি সাদে৬
মোমের ভাণ্ডারে মধু রাখিস্ গোপনে,
ইন্দ্র যথা চন্দ্রলোকে, দানব-বিবাদে
সুধামৃত ?৭ এ আয়াসে কি সুফল ফলে ?
কৃপণের ভাগ্য তোর ! কৃপণ যেমতি
অনাহারে, অনিদ্রায়, সঞ্চয়ে বিকলে
বৃথা অর্থ; বিধি-বশে তোর সে দুৰ্গতি !
পর জন পরে তোর শ্রমের সঙ্গতি !
8২
নদী-তীরে প্রাচীন দ্বাদশ শিবমন্দির
এ মন্দির-বৃন্দ হেথা কে নিৰ্ম্মিল কবে ?
কোন্ জন ? কোন কালে ? জিজ্ঞাসিব কারে ?
কহ মোরে কহ তুমি কল কল রবে,
ভুলে যদি, কল্লোলিনি, না থাক লো তারে।
এ দেউল-বর্গ গাঁথি উৎসর্গিল যবে
সে জন, ভাবিল কি সে, মাতি অহঙ্কারে,
থাকিবে এ কীৰ্ত্তি তার চিরদিন ভবে,
দীপরূপে আলো করি বিস্মৃতি-আঁধারে ?
বৃথা ভাব, প্রবাহিণি, দেখ ভাবি মনে।
কি আছে লো চিরস্থায়ী এ ভবমণ্ডলে ?
গুঁড়া হয়ে উড়ি যায় কালের পীড়নে
পাথর ; হুতাশে তার কি ধাতু না গলে ?—
কোথা সে ? কোথা বা নাম ? ধন ? লো ললনে ?
হায়, গত, যথা বিম্ব তব চল জলে !
8৩
ভরসেল্স নগরে রাজপুরী ও উদ্যান
কত যে কি খেলা তুই খেলিস্ ভুবনে,
রে কাল, ভুলিতে কে তা পারে এই স্থলে ?
কোথা সে রাজেন্দ্র এবে, যার ইচ্ছা-বলে
বৈজয়ন্ত-সম৮ ধাম এ মৰ্ত্ত্য-নন্দনে
শোভিল ? হরিল কে সে নরাপ্সরা-দলে,
নিত্য যারা, নৃত্যগীতে এ সুখ-সদনে,
মজাইত রাজ-মনঃ, কাম-কুতূহলে ?
কোথা বা সে কবি, যারা বীণার স্বননে,
(কথারূপ ফুলপুঞ্জ ধরি পুট করে)
পূজিত সে রাজপদ? কোথা রখী যত,
গাণ্ডীবি-সদৃশ যারা প্রচণ্ড সমরে ?
কোথা মন্ত্রী বৃহস্পতি৯ ?
তোর হাতে হত।
রে দুরন্ত, নিরন্তর যেমত সাগরে
চলে জল, জীব-কুলে চালাস্ সে মত।
১. অগ্নি।
২. কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস।
৩. সাঙ্গ করে।
৪. তুম্বকী— একতারা।
৫. কথা বলার আঞ্চলিক কথ্যরূপ।
৬. সাধে।
৭. সমুদ্রমন্থনের প্রসঙ্গ।
৮. ইন্দ্রের
প্রাসাদ—ইন্দ্রপুরী।
৯. প্রজ্ঞাবান অর্থে।