:::: সূচীপত্র ::::

88

কিরাত-আৰ্জ্জুনীয়ম্‌

ধর ধনুঃ সাবধানে পার্থ মহামতি
সামান্য মেনো না মনে, ধাইছে যে জন
ক্রোধভরে তব পানে ! ওই পশুপতি,
কিরাতের রূপে তোমা করিতে ছলন !
হুঙ্কারি আসিছে দ্মী মৃগরাজ-গতি,
হুঙ্কারি, হে মহাবাহু, দেহ তুমি রণ
বীর-বীর্য্যে আশা-লতা কর ফলবতী
বীরবীৰ্য্যে আশুতোষে তোষ, বীর-ধন !

করেছ কঠোর তপঃ গহন বনে ;
কিন্তু, হে কৌন্তেয়, কহি, যাচিছ যে শর,
বীরতা-ব্যতীত, বীর, হেন অস্ত্র-ধনে
নারিবে লভিতে কভু,দুর্লভ বর !
কি লাজ, অৰ্জ্জুন, কহ, হারিলে রণে ?
মৃত্যুঞ্জয় রিপু তব, তুমি, রথি, নর

8

পরলোক

 আলোক-সাগর-রূপ রবির কিরণে,
ডুবে যথা প্রভাতের তারা সুহাসিনী ;
ফুটে যথা প্রেমামোদে, আইলে যামিনী,
কুসুম-কুলের কলি কুসুম-যৌবনে ;
বহি যথা সুপ্রবাহে প্রবাহ-বাহিনী,
লভে নিরবাণ সুখে সিন্ধুর চরণে,
এই রূপে ইহ লোক শাস্ত্রে কাহিনী
নিরন্তর সুখরূপ পরম রতনে
পায় পরে পর-লোকে, ধরমের বলে
হে ধৰ্ম্ম, কি লোভে তবে তোমারে বিস্মরি,
চলে পাপ-পথে নর, ভুলি পাপ-ছলে ?
সংসার-সাগর-মাঝে তব স্বর্ণতরি
তেয়াগি, কি লোভে ডুবে বাতময় জলে ?
দুদিন বাঁচিতে চাহে, চির দিন মরি ?


8

বঙ্গদেশে এক মান্য বন্ধুর উপলক্ষে

হায় রে, কোথা সে বিদ্যা, যে বিদ্যার বলে,
দূরে থাকি পার্থ রখী তোমার চরণে
প্ৰণমিলা, দ্রোণগুরু ! আপন কুশলে
তুষিলা তোমার কর্ণ গোগৃহের রণে?
মম মিনতি, দেব, আসি অকিঞ্চনে
শিখাও সে মহাবিদ্যা দূর অঞ্চলে
তা হলে, পূজিব আজি, মজি কুতূহলে,
মানি যাঁরে, পদ তাঁর ভারত-ভবনে !
নমি পায়ে কব কানে অতি মৃদুস্বরে,
বেঁচে আছে আজু দাস তোমার প্রসাদে ;
অচিরে ফিরিব পুনঃ হস্তিনা-নগরে ;
কেড়ে লব রাজ-পদ তব আশীৰ্ব্বাদে
কত যে কি বিদ্যা-লাভ দ্বাদশ বৎসরে
করিনু, দেখিবে, দেব, স্নেহের আহ্লাদে।

8

শ্মশান


বড় ভাল বাসি আমি ভ্ৰমিতে স্থলে,
তত্ত্ব-ধীক্ষা-দায়ী স্থল জ্ঞানের নয়নে
নীরবে আসীন হেথা দেখি ভস্মাসনে
মৃত্যুতেজোহীন আঁখি, হাড়-মালা গলে,
বিকট অধরে হাসি, যেন ঠাট-ছলে !
অর্থের গৌরব বৃথা হেথা সদনে
রূপের প্রফুল্ল ফুল শুষ্ক হুতাশনে,
বিদ্যা, বুদ্ধি, বল, মান, বিফল সকলে
কি সুন্দর অট্টালিকা, কি কুটীর-বাসী,
কি রাজা, কি প্রজা, হেথা উভয়ের গতি
জীবনের স্রোতঃ পড়ে সাগরে আসি
গহন কাননে বায়ু উড়ায় যেমতি
পত্র-পুঞ্জে, আয়ু-কুঞ্জে, কাল, জীব-রাশি
উড়ায়ে, নদ-পাড়ে তাড়ায় তেমতি


১. ছদ্মবেশধারী।
২. যিনি অল্পে সন্তুষ্ট হনমহাদেব।
৩. এই কবিতার উপাদান মহাভারতের আখ্যান থেকে লওয়া।
৪. ঝটিকাসংকুল।
৫. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্দেশ্যে রচিত।
৬. মহাভারতের গোগৃহ যুদ্ধের প্রসঙ্গ।
৭. নিঃস্ব।
৮. আজও।
৯. দয়ায়। ফ্রান্সে নিদারুণ আর্থিক সঙ্কটকালে বিদ্যাসাগর মহাশয় কবিকে সাহায্য পাঠিয়েছিলেন।

সূত্র : মধুসূদন রচনাবলী-সব্যসাচী রায় (সম্পাদনায়)