:::: সূচীপত্র ::::

৬৪

ক্রোধান্ধ মেঘের চক্ষে জ্বলে যথা খরে
ক্রোধাগ্নি তড়িত-রূপে; রকত-নয়নে
ক্রোধাগ্নি! মেঘের মুখে যেমতি নিঃসরে
ক্ৰোধ-নাদ বজ্রনাদে, সে ঘোর ঘোষণে
ভয়াৰ্ত্ত ভূধর ভূমে, খেচর অম্বরে,
ঘন হুহুঙ্কার-ধ্বনি বিকট বদনে ;
রক্ষঃ-কুল-কলঙ্কিনি, কোথা লো এ বনে
তুই? দেখি,আজি তোরে কে বা রক্ষা করে!
মুর্ত্তিমান্ রৌদ্র-রসে হেরি রসবতী,
সভয়ে কহিলা কাঁদি বীরেন্দ্রের পদে,
"লৌহ-ক্রম চিল ওই সফরীর গতি,
দাসীর ! ছুটিছে দুষ্ট ফাটি বীর-মদে,
অবলা অধীনা জনে রক্ষ, মহামতি,
বাঁচাই পরাণ ডুবি তব কৃপা-হ্রদে

৬৫

উদ্যানে পুষ্করিণী

বড় রম্য স্থলে বাস তোর, লো সরসি !
দগধা বসুধা যবে চৌদিকে প্রখরে
তপনের, পত্রময়ী শাখা ছত্র ধরে
শীতলিতে দেহ তোর ; মৃদু শ্বাসে পশি,
সুগন্ধ পাখার রূপে, বায়ু বায়ু করে
বাড়াতে বিরাম তোর আদরে, রূপসি,
শত শত পাতা মিলি মিষ্টে মরমরে ;
স্বর্ণ-কান্তি ফুল ফুটি, তোর তটে বসি,
যোগায় সৌরভ-ভোগ, কিঙ্করী যেমতি
পাট-মহিষীর খাটে, শয়ন-সদনে
নিশায় বাসর রঙ্গ তোর, রসবতি,
লয়ে চাঁদে,কত হাসি প্রেম-আলিঙ্গনে
বৈতালিক-পদে তোর পিক-কুল-পতি ;
ভ্রমর গায়ক ; নাচে খঞ্জন, ললনে

৬৬

নুতন বৎসর

ভূত-রূপ সিন্দু-জলে গড়ায়ে পড়িল
বৎসর, কালের ঢেউ, ঢেউর গমনে
নিত্যগামী রথচক্র নীরবে ঘুরিল
আবার আয়ুর পথেহৃদয়-কাননে,
কত শত আশা-লতা শুখায়ে মরিল,
হায় রে, কব তা কারে, কব তা কেমনে!
কি সাহসে আবার বা রোপিব যতনে
সে বীজ, যে বীজ ভূতে বিফল হইল !
বাড়িতে লাগিল বেলা ; ডুবিবে সত্বরে
তিমিরে জীবন-রবিআসিছে রজনী,
নাহি যার মুখে কথা বায়ু-রূপ স্বরে ;
নাহি যার কেশ-পাশে তারা-রূপ মণি ;
চির-রুদ্ধ দ্বার যার নাহি মুক্ত করে
ঊষা,তপনের দূতী, অরুণ-রমণী

৬৭

কেউটিয়া সাপ

বিষাগার শিরঃ হেরি মণ্ডিত কমলে
তোর, যম-দূত, জন্মে বিস্ময় মনে !
কোথায় পাইলি তুইকোন্ পুণ্যবলে
সাজাতে কুচুড়া তোর, হেন সুভূষণে ?
বড়ই অহিত-কারী তুই ভবনে
জীব-বং-ধ্বংস-রূপে সংসার-মণ্ডলে
সৃষ্টি তোরছটফটি, কে না জানে, জ্বলে
শরীর, বিষাগ্নি যবে জ্বালাস্‌ দংশনে?
কিন্তু তোর অপেক্ষা রে, দেখাইতে পারি,
তীক্ষ্ণতর বিষধর অরি নর-কুলে !
তোর সম বাহ্য-রূপে অতি মনোহারী,
তোর সম শিরঃ-শোভা রূপ-পদ্ম-ফুলে
কে সে? কবে কবি, শোন! সে রে সেই নারী,
যৌবনের মদে যে রে ধৰ্ম্ম-পথ ভুলে !

১. স্তুতিপাঠক।

সূত্র : মধুসূদন রচনাবলী-সব্যসাচী রায় (সম্পাদনায়)