:::: সূচীপত্র ::::

৯৬

কোন এক পুস্তকের ভূমিকা পড়িয়া

চাঁড়ালের হাত দিয়া পোড়াও পুস্তকে !
করি ভস্মরাশি, ফেল, কৰ্ম্মনাশা-জলে !
সুভাবের উপযুক্ত বসন, যে বলে
নার বুনিবারে, ভাষা! কুখ্যাতি-নরকে
যম-সম পারি তারে ডুবাতে পুলকে,
হাতী-সম গুঁড়া করি হাড় পদতলে !
কত যে ঐশ্বৰ্য্য তব ভব-মণ্ডলে,
সেই জানে, বাণীপদ ধরে যে মস্তকে !

কামার্ত্ত দানব যদি অপ্সরীরে সাধে,
ঘৃণায় ঘুরায়ে মুখ হাত দে সে কানে ;
কিন্তু দেবপুত্র যবে প্রেম-ডোরে বাঁধে
মনঃ তার, প্রেম-সুধা হরষে সে দানে
দূর করি নন্দঘোষে, ভজ শ্যামে,রাধে,
বেটা নিকটে এলে ঢাকো মুখ মানে


৯৭

মিত্রাক্ষর

বড়ই নিষ্ঠুর আমি ভাবি তারে মনে,
লো ভাষা, পীড়িতে তোমা গড়িল যে আগে
মিত্রাক্ষর-রূপ বেড়ি ! কত ব্যথা লাগে
পর যবে নিগড় কোমল চরণে
স্মরিলে হৃদয় মোর জ্বলি উঠে রাগে !
ছিল না কি ভাব-ধন, কহ, লো ললনে,
মনের ভাণ্ডারে তার, যে মিথ্যা সোহাগে
ভুলাতে তোমারে দিল কুচ্ছ ভূষণে ?
কি কাজ রঞ্জনে রাঙি কমলের দলে ?
নিজ-রূপে শশিকলা উজ্জ্বল আকাশে !
কি কাজ পবিত্রি মন্ত্রে জাহ্নবীর জলে ?
কি কাজ সুগন্ধ ঢালি পারিজাত-বাসে ?
প্রকৃত কবিতা-রূপী প্রকৃতির বলে,
চীন-নারী-সম পদ কেন লৌহ-ফাঁসে ?

৯৮

ব্ৰজ-বৃত্তান্ত


আর কি কাঁদে, লো নদি, তোর তীরে বসি,
মথুরার পানে চেয়ে, ব্রজের সুন্দরী ?
আর কি পড়ে লো এবে তোর জলে খসি
অশ্রু-ধারা ; মুকুতার কম রূপ ধরি ?
বিন্দা,চন্দ্ৰাননা দূতী মোরে, রূপসি
কালিন্দি, পার কি আর হয় লহরী,
কহিতে রাধার কথা, রাজ-পুরে পশি,
নব রাজে, কর-যুগ ভয়ে যোড় করি ?
বঙ্গের হৃদয়-রূপ রঙ্গ-ভূমি-তলে
সাঙ্গিল কি এত দিনে গোকুলের লীলা ?
কোথায় রাখাল-রাজ পীত ধড়া গলে ?
কোথায় সে বিরহিণী প্যারী চারুশীলা ?
ডুবাতে কি ব্রজ-ধামে বিস্মৃতির জলে,
কাল-রূপে পুনঃ ইন্দ্র বৃষ্টি বরষিলা !

 ৯৯

ভূত কাল

কোন্‌ মূল্য দিয়া পুনঃ কিনি ভূত কালে,
কোন মূল্য মন্ত্রণা কারে লয়ে করি?
কোন্‌ ধন, কোন্‌ মুদ্রা, কোন্‌ মণি-জালে
দুৰ্ল্লভ দ্রব্য-লাভ? কোন্‌ দেবে স্মরি,
কোন্‌ যোগে, কোন্‌ তপে, কোন্‌ ধৰ্ম্ম ধরি?
আছে কি এমন জন ব্রাহ্মণে, চণ্ডালে,
দীক্ষা-শিক্ষার্থে যারে গুরু-পদে বরি,
তত্ত্ব-স্বরূপ পদ্ম পাই যে মৃণালে ?
পশে যে প্রবাহ বহি অকুল সাগরে,
ফিরি কি সে আসে পুনঃ পৰ্ব্বত-সদনে ?
যে বারির ধারা ধরা সতৃষ্ণায় ধরে,
উঠে কি সে পুনঃ কভু বারিদাতা ঘনে ?
বৰ্ত্তমানে তোরে, কাল, যে জন আদরে
তার তুই গেলে তোরে পায় কোন্‌ জনে ?


১. কবির বিতৃষ্ণ মনোভাবের উৎস কোন পুস্তক তা এখনো পর্যন্ত উদ্ঘাটিত হয়নি।

সূত্র : মধুসূদন রচনাবলী-সব্যসাচী রায় (সম্পাদনায়)