১০০
প্রফুল্ল কমল যথা সুনির্ম্মল জলে
আদিত্যের জ্যোতিঃ দিয়া আঁকে স্ব-মূরতি ;
প্রেমের সুবর্ণ রঙে, সুনেত্রা যুবতি,
চিত্রেছে যে ছবি তুমি এ হৃদয়-স্থলে,
মোছে তারে হেন কার আছে লো শকতি
যত দিন ভ্ৰমি আমি এ ভব-মণ্ডলে ? —
সাগর-সঙ্গমে গঙ্গা করেন যেমতি
সেই রূপে থাক তুমি! দুরে কি নিকটে,
যেখানে যখন থাকি, ভজিব তোমারে ;
যেখানে যখন যাই, যেখানে যা ঘটে !
প্রেমের প্রতিমা তুমি, আলোক আঁধারে !
অধিষ্ঠান নিত্য তব স্মৃতি-সৃষ্ট মঠে, —
সতত সঙ্গিনী মোর সংসার-মাঝারে । ১
১০১
আশা
বাহ্য-জ্ঞান শূন্য করি, নিদ্রা মায়াবিনী
কত শত রঙ্গ করে নিশা-আগমনে! —
কিন্তু কি শকতি তোর এ মর-ভবনে
লো আশা !—নিদ্রার কেলি২আইলে যামিনী,
ভাল মন্দ ভুলে লোক যখন শয়নে,
দুখ, সুখ, সত্য, মিথ্যা! তুই কুহকিনী,
তোর লীলা-খেলা দেখি দিবার মিলনে, —
জাগে যে স্বপন তারে দেখাস্, রঙ্গিণি !
কাঙ্গালী যে, ধন-ভোগ তার তোর বলে ;
মগন যে, ভাগ্য-দোষে বিপদ-সাগরে,
(ভুলি ভূত, বৰ্ত্তমান ভুলি তোর ছলে)
কালে তীর-লাভ হবে, সেও মনে করে !
ভবিষ্যৎ-অন্ধকারে তোর দীপ জ্বলে ; —
এ কুহক পাইলি লো কোন্ দেব-বরে?
১০২
সমাপ্তে
বিসর্জ্জিব আজি, মা গো, বিস্মৃতির জলে
(হৃদয়-মণ্ডপ, হায়, অন্ধকার করি !)
ও প্রতিমা ! নিবাইল, দেখ, হোমানলে
মনঃ-কুণ্ডে অশ্রু-ধারা মনোদুঃখে ঝরি !
শুখাইল দূরদৃষ্ট সে ফুল্ল কমলে,
যার গন্ধামোদে অন্ধ এ মনঃ বিস্মরি
সংসারে ধর্ম্ম, কর্ম্ম! ডুবিল সে তরি,
কাব্য-নদে খেলাইনু যাহে পদ-বলে
অল্প দিন ! নারিনু, মা চিনিতে তোমারে
শৈশবে, অবোধ আমি ! ডাকিলা যৌবনে;
(যদিও অধম পুত্র, মা কি ভুলে তারে ? )
এবে—ইন্দ্রপ্রস্থ৩ ছাড়ি যাই দূর বনে !
এই বর, হে বরদে, মাগি শেষ বারে, —
জ্যোতিৰ্ম্ময় কর বঙ্গ—ভারত-রতনে!
১. সম্ভবত কবিপত্মী হেনরিয়েটার উদ্দেশ্যে কবিতাটি
রচিত।
২. খেলা।
৩. এখানে কর্মস্থর অর্থে ব্যবহৃত।